শাহপরাণ থানার জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) সমীরণ দাস জানান, মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলো গ্রেফতার তোফায়েল আহমদ (২২)। তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিন জন হলো উপশহরের হাবিবুর রহমানের ছেলে জাকারিয়া মাহমুদ (২৭), টিলাগড়ের ভাঙাটিকর এলাকার মৃত আখলাকুর রহমানের ছেলে রুহেল আহমদ (২৭) ও সুনামগঞ্জ নয়ানগর গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে শওকত হাসান মানিক (২৬)। এই তিন জন পলাতক।
অভিযোগপত্র থেকে যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা হলো— জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী, রাফিউল করিম মাসুম, বিয়ানীবাজারের উত্তর চক্রবাণী গ্রামের মৃত মইনুল হকের ছেলে সারোয়ান হোসেন চৌধুরী, কোতোয়ালি থানাধীন রায়নগর এলাকার আকরাম খানের ছেলে জুবায়ের খান (২৬), ফেঞ্চুগঞ্জের শরীফগঞ্জ গ্রামের সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে ফাহিম শাহ (২৭) ও জকিগঞ্জের সেনাপতিরচক গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৩৩)।
ছাত্রলীগ নেতা ওমর মিয়াদ ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর (সোমবার) সিলেট নগরের টিলাগড়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ সরকার জানান, ৪ এপ্রিল সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হলে জামিনে থাকা তোফায়েল আহমদকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি জকিগঞ্জের সেনাপতির চক গ্রামের বাসিন্দা মুহিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ওমর মিয়াদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে তোফায়েলকে অভিযুক্ত করায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।’
নিহত ওমর মিয়াদ বেসরকারি লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বালিচরি গ্রামের আকুল মিয়ার ছেলে।
মামলার বাদী ওমর মিয়াদের বাবা জানান, মামলার পরবর্তী তারিখ ২৩ এপ্রিল অভিযোগপত্রের ওপর তিনি নারাজি দাখিল করবেন। এর আগে গত বছরের ১৮ মার্চ ওমর মিয়াদের বাবা আকুল মিয়া শাহপরাণ থানায় রায়হান চৌধুরীকে প্রধান করে ১০জনের নাম উল্লেখসহ হত্যা মামলা করেন।