শ্রীমঙ্গলে একদিনের ব্যবধানে চার মন্দিরে চুরি!

শ্রীমঙ্গলে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক দিনের ব্যবধানে চার মন্দিরে চুরি হয়েছে। এনিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে।

বুধবার রাতে কোনও এক সময় উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের দরজা ও দানবাক্সের তালা ভেঙে নগদ টাকাসহ পিতলের তৈরি গোপালের মুর্তি ও মন্দিরের ভেতরে থাকা পূজার কাজে ব্যবহার্য্য বিভিন্ন তৈজসপত্র চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে  গীতাসহ মহাপ্রভুর পরিধানের কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী মন্দিরের টয়লেটের পাশে পাওয়া যায়। মন্দিরটিতে এই নিয়ে তিনবার চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সোমবার রাতে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নে অবস্থিত মঙ্গলচন্ডীর মন্দির ও ভৈরব মন্দির এবং পার্শ্ববর্তী সাতগাঁও ইউনিয়নের মাকরিছড়া চা বাগানের লক্ষ্মীরায়ণ মন্দিরের দরজা ও দানবাক্সের তালা ভেঙে নগদ টাকাসহ মন্দিরের ভেতরে থাকা পূজার কাজে ব্যবহার্য বিভিন্ন তৈজসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও দুই বছরে আগে মঙ্গলচন্ডীর মন্দিরে মহাদেবের মুর্তি ভেঙে ফেলে দেয়।

শ্রীমঙ্গলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য কোনও একটি চক্র পায়ঁতারা করছে বলে মনে করছেন সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন শীল। তবে উপজেলার একাধিক স্থানে মন্দিরে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুশীল শীল বলেন,‘একের পর এক মন্দিরে চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এনেছে। এ ব্যপারে প্রশাসনের উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। পুলিশ যদি দ্রুত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত ও দায়ীদের গ্রেফতার করতে না পারে তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অজয় কুমার দেব বলেন,‘মন্দিরে চুরির ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই খুঁজে বের করতে হবে। কারা এসবে’র সঙ্গে জড়িত।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন,‘বিষয়টি অবহিত হওয়া মাত্রই আমি ওসি’র সঙ্গে কথা বলেছি,যাতে আর এধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বলেছি। মন্দিরে চুরি’র ঘটনাগুলো তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন,‘পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আমারও কথা হয়েছে। আমি সরেজমিন যাচ্ছি এবং উনাদের নিয়ে বসবো। আশা করছি,অচিরেই একটা ফল পাবেন।’