ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাওর রক্ষাবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

বজলুর রশীদহবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইতাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে হাওর রক্ষাবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেওয়া এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরেজমিন তদন্ত করেছেন জেলা প্রশাসন।
গত ২০ আগস্ট নবীগঞ্জ উপজেলার ইতাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশীদের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার একই ইউনিয়নের বানিউন গ্রামের মো. আকিবুর রহমান।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- হাওর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী-খাল পুণঃখননের স্কিম প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০১৭-এর অধীনে নবীগঞ্জ উপজেলায় ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ৫নং পিআইসির প্রকল্প সভাপতি ইনাতগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ ৭০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ টাকা বরাদ্দ পান। কাজের শুরু থেকেই চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ তৎকালীন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।
লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়- চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এজিএসপি পুরো টাকা ইউপি সচিব রাসেন্দ্র দাশ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়ে গত ২৮ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষিতে গত ২২ ডিসেম্বর সরেজমিনে ঘটনাস্থলে প্রকল্পের বাঁধ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করেন হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। আমি নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সরেজমিনে তদন্ত করে আসছে। আবার আগামী ৫ জানুয়ারি ফের তাদেরকে অফিসে ডাকা হয়েছে প্রয়োজনয়ী কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য। উভয়পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করে প্রতিবেদন শিগগিরই ঢাকার দুদক অফিসে পাঠানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের যা পাওয়া যাবে তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।’