জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাত ১২টায় র্যাব কর্মকর্তা ওই নারীকে তার গাড়িতে হাসপাতালে নেন। ওই দিন পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (১ মে) ছিল শিশুটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা। শিশুটির বাবার অনুরোধে র্যাব কমান্ডার যথাসময়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলীর দক্ষিণ উত্তরসুর গ্রামে আসেন। তিনি শিশুটির নাম রাখেন শচীন চন্দ্র দাস।
তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওই বাড়ির কাউকে বাইরে আসতে দেননি, এমনকি তিনি নিজেও যাননি ঘরের মধ্যে। দরজার সামনে উকি দিয়ে তিনি বাচ্চাটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি নবজাতকের হাতে একটি কলম তুলে দেন এবং তার মাকে কিছু উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন।
নবজাতক বাচ্চাটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে র্যাব কমান্ডার বলেন, 'উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের একজন বড় ভক্ত আমি। তাছাড়া ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখতেও অনেক পছন্দ করতাম সেই ছোটবেলা থেকে। এই দু'জন গুণী মানুষের নামের সঙ্গে মিলিয়েই শিশুটির নাম রেখেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'ছেলেটি বড় হয়ে কী হবে-না হবে, অনেক পয়সাওয়ালা বা গুণী হবে কিনা তা নিয়ে আমার কোনও চাওয়া নেই। শুধু চাই, সে যেন একজন ভালো মানুষ হয়। মানবজাতি এবং অন্য সব সৃষ্ট জীবের প্রতি গভীর ভালবাসা বুকে ধারণ করেই যেন সে বেড়ে ওঠে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নবজাতকের জন্য এটাই আমার প্রার্থনা।’
প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এএসপি আনোয়ার তার মানবিক কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। তিনি ৩৪তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন উত্তর বড়বিল গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বিলকিস বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়।
আরও পড়ুন...
র্যাব কর্মকর্তার সহায়তায় বাঁচলো প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন