উপজেলাবাসীর যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করেন। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বারবার সংস্কারের দাবি উঠলেও সংস্কার কাজ যথা সময়ে শুরু হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, বন্যায় সড়কটি পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এছাড়া করোনা সংক্রমণ ও পাথর সংকটের কারণে সংস্কার কাজ কিছুটা ধীর গতিতে হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ঠিকাদার এলজিইডি ও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারপরও ধর্মঘট ডাকা অযৌক্তিক।
২০১৭ সালে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের জগন্নাথপুরের ১৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পান সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূরা এন্টারপ্রাইজ। ওই প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করে বন্ধ করে দেয়। ২০১৮ সালে ১০ লাখ টাকার জরুরি সংস্কার করা হয়। এর কিছুদিন পর ২০১৯ সালে সড়কের বেহাল দশা দেখা দিলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর অস্থায়ী মেরামতের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজ পেয়ে সড়কের মেরামত করে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেনু এন্টারপ্রাইজ।
গত বছরের শেষের দিকে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজটি পায় মাদারীপুরেরর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি)। চুক্তি অনুয়ায়ী গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সড়কের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু হয় মার্চের প্রথম দিকে। চুক্তি মোতাবেক আগামী বছরের ৩১ মার্চ কাজটি শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে দেশে করোনা প্রার্দুভাব দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সম্প্রতিকালে ঝড়-বৃষ্টির সময় সামান্য কাজের পর ফের বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অব্যাহত বৃষ্টি আর তিন দফা বন্যায় প্রায় অচল হয়ে পড়ে সড়কটি। গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিজামুল করিম জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের দাবিতে আমরা একাধিকবার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছি। সংস্কারের আশ্বাসে কর্মসূচি বাববার প্রত্যাহারও করেছি। বর্তমানে সড়কে বেহাল দশা বিরাজ করছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্মসূচি দিয়েছি। গত দুই তিন মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ। আমাদের কর্মসূচির একদিন আগে হঠাৎ সোমবার দুই তিনজন শ্রমিক দিয়ে সড়কের একাংশে কাজের নামে নাটক করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ধর্মঘট চলবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সাকলাইন হোসেন জানান, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে আজ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিন দফা বন্যা, করোনা সংক্রমণ, বৈরি আবহওয়া ও পাথর সংকটের কারণে কাজ থেমে ছিল। সোমবার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ৯টি পয়েন্টে বড় বড় গর্তগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও হয়েছে। তারা ধর্মঘট না করার কথা বলে আবার কথা থেকে সরে এসেছেন। সড়কের সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অংশ সংস্কারের বিষয় নিয়ে তখন তারা কেউ কথা বলেননি। এখন আবার ধর্মঘটের কথা বলছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক আইডিএ এর অর্থায়নে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সড়কের কাজ চলমান রয়েছে।