কক্ষে ঝুলছিল দম্পতির লাশ, পাশে কাঁদছিল শিশুসন্তান

সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকা থেকে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় পাঠানটুলার পল্লবী আ/এ সি-২৫ নম্বর বাসার একটি কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আত্মহত্যাকারীরা হলেন—রিপন দাস (৩০) ও শিপা তালুকদার (২৭)। রিপন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাগ ইউনিয়নের রাজাবাজ গ্রামের সুভাষ দাসের ছেলে এবং শিপা সুনামগঞ্জ সদরের মনপুর ইউনিয়নের ফন্দিয়া গ্রামের নির্ণয় তালুকদারের মেয়ে। তারা সিলেটের পল্লবী আবাসিক এলাকার ধীরেন্দ্র দের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘরের ভেতর থেকে তাদের মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে ডাকাডাকি করেন বাড়ির অন্যরা। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তারা পুলিশে খবর দেন তারা। সকাল ১১টায় পুলিশ এসে দরজা ভেঙে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি, তোমরা আমার সন্তানকে খেয়াল রেখো।’ কিন্তু এই চিরকুটটি রিপন নাকি শিপা লিখেছেন, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। আর কোন ‘পাপের’ কথা এখানে লেখা হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে আমরা খবর পাই। তারপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের তথ্য জানা গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’