সিসিক নির্বাচন

জীবন গেলেও ভোটের মাঠ ছাড়বো না: বাবুল

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, জীবন গেলেও ভোটের মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন না। তার অভিযোগ, নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ তাকে নানা চাপের মুখে রেখেছে। তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৪ জুন) সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি এসব অভিযোগ করেন।  

বাবুল বলেন, ‘আমাকে ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করতে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।’ তার ভাষ্য, নিবার্চনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা এমন করছে। 

লাঙ্গল প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘নগরবাসী এ চক্রান্ত বুঝতে পেরে লাঙ্গলের পক্ষে আরও মজবুত অবস্থান নিয়েছে।’
 
তিনি বলেন, ‘আমার বিচার দেওয়ার জায়গা নেই। রিটার্নিং অফিসার ও তার অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। উল্টো তারা আমার উপরই কড়াকড়ি আরোপ করছেন। নৌকার প্রার্থী একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, নগরবাসী জেগে উঠলে সব ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ছিন্ন করে সিলেটে লাঙ্গলের জয় হবেই।’

নজরুল ইসলাম বাবুল নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। হলফনামায় দেওয়া তার তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থী যে হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছেন এ ব্যাপারে নগরীর নরসিংটিলা এলাকার বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগ থেকে স্পষ্ট হলফনামায় দেওয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে অসত্যতা রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে তিনি নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। ফৌজদারি আইনে এ অপরাধের শাস্তি ৩ বছরের কারাদণ্ডসহ জরিমানা। লিখিত অভিযোগে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও রিটার্নিং অফিসার এ ব্যাপারে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। এতেই স্পষ্ট হয়েছে সিলেট সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’

বরিশাল সিটি নির্বাচনে ইসলামি আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘বরিশালের ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে সিলেটে নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান। নির্বাচনী মাঠে আশঙ্কা থাকায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সিলেটের বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। এখন সিলেটে টার্গেট আমি। আমাকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু আমি এই সিলেট শহরের সন্তান। সিলেটের মানুষের জন্য প্রয়োজনে জীবন দেবো, তবু পালাবো না। শেষ পর্যন্ত দেখবো।’