অব্যাহত লোডশেডিং এবং ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জে বোরো চাষের ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে এ মৌসুমে বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তবে জেলা কৃষি অফিস মনে করছে, এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯০ ভাগ অর্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি অফিস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ করা হচ্ছে আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায়।
তবে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং সরকার নির্ধারিত মূলের চেয়ে ব্যবসায়ীরা সার ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা দাবী করছেন, ধানের আবাদে তাদের খরচ বেশি হচ্ছে। ফলে ফসল বিক্রির সময় সে অনুযায়ী দাম না পেলে তাদেরকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তবে সরকার ধানের দাম বাড়ালে হয়তো কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বড় বহুলা গ্রামের কৃষক আমজাদ আলী জানান, ‘বিদ্যুতের কারণে আমরা এমনিই দেরিতে কৃষিকাজ শুরু করছি। এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং হওয়ায় জমিতে ঠিকভাবে পানি পাইনি। এতে চাষাবাদে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে।’
একই গ্রামের ফজর আলী জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে পানি পাচ্ছি না। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সার ও ডিজেলের দাম খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেমি দামে ক্রয় করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এ নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের করম আলী বলেন, ‘বর্তমানে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব উপকরণই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বোরো চাষে খরচ বেশি হয় কিন্তু ধানের দাম কম হওয়ায় আমাদের লাভ হয় না। আমরা এখন বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই বোরো চাষ করতে হয়।’
সদর উপজেলার পইল গ্রামের সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার শহিদুল হক জানান, ‘আমরা পল্লী বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ প্রকল্প চালিয়ে আসছি। বিদ্যুতের কারণে অনেক সময়ই সেচ চালু করতে হিমশিম খাচ্ছি। তবে আমরা চেষ্টা করি পানির অভাবে যাতে করে কৃষকদের কোনও ধরনের ক্ষতি না হয়।’
হবিগঞ্জ কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক শাহ আলম জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হবে। সার ও ডিজেলের দাম কৃষকের সাধ্যের মধ্যেই আছে। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের মনিটরিং করা হচ্ছে। কৃষকদের সব ধরনের টেকনিকেল সাপোর্ট দিয়ে আসছি।
/এসটি/