দাবি পূরণের আশ্বাস, সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর মুক্ত এমসি কলেজের অধ্যক্ষ

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে পানি সরবরাহ ও ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেওয়ায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫ মিনিটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সমাধানের আশ্বাস দিলে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে রাত ৮টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাব্বির আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ছাত্রাবাসে পানির সংকট চলছে। বারবার অধ্যক্ষকে জানানোর পরও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুপুরে বৈঠকে আমরা পানি সংকট নিরসনে টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। অধ্যক্ষ বলেছেন টাকা নেই। একটা টিউবওয়েল বসানোর টাকা কলেজের ফান্ডে নেই, এই কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই আন্দোলনে নেমেছি এবং অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেছি। রাতে আমাদের নিয়ে বৈঠক করে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক সংকট নিরসন ও ছাত্রাবাসে পানির সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়।’

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল আনাম মো. রিয়াজ বলেন, ‘ছাত্রাবাসে পানির সংকট নিরসনে আগামী রবিবার কাজ শুরু হবে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হবে।’

কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি সিনহা বলেন, ‘ছাত্রাবাসে পানি না থাকা, ক্লাসরুমে শিক্ষক না থাকার মতো বিষয়গুলো মেনে নেওয়া যায় না। এজন্য বারবার অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেছি আমরা। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলন থেকে সরে আসি। তবে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আবারও আন্দোলনে নামবো।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় শাহপরাণ থানা পুলিশের একটি দল। শাহপরাণ থানার ওসি হারুনুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।’

আরও পড়ুন: পানির দাবিতে এমসি কলেজের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ