সিলেটের সুবিদবাজার ও মিরের ময়দান এলাকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে উভয়দিক থেকে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল ফটক। এতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন শাবিপ্রবির গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম আলী হায়দার চৌধুরী। এ সময় তিনি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হত্যার বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে ক্লাসে ফিরিয়ে দিতে সরকারকে আহ্বান জানান এ শিক্ষক।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সিলেট নগরীর বন্দর এলাকার কোর্ট পয়েন্টের মুখে অগ্রসর হন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি সুবিদবাজার এলাকায় গেলে শিক্ষার্থীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে লাঠিপেটা শুরু করে বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুবিদবাজার এলাকায় শিক্ষার্থীরা এলে পুলিশ তাদেরকে সামনে দিকে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। পরে হঠাৎ বিকট আওয়াজ হতে শুরু করে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। মিরের ময়দান, রিকাবীবাজার, সাগরদীঘিরপরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। এসময় একাধিক শিক্ষার্থী মাটিতে শুয়ে পড়েন। এতে অনেকে আহত হয়েছেন।
পুলিশি হামলা ও হতাহতের ঘটনা জানতে চাইলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ পেছন থেকে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এতে আমাদের বেশকিছু নারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। অনেকে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ গণমাধ্যমে জানান, শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের অভিমুখে অগ্রসর হলে সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদেরকে বাধা দেয়। এ সময় মিছিলটি আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করলে আমরা তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি কাউকে আটকও করা হয়নি।