চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা লাগবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বাজেট দিয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটেও এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে তিনি সেখানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
আগস্টের পর অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠক করবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বৈঠকে কোন নির্বাচন আগে ও কোনটি পরে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অন্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট নগরী বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সিলেট সিটি করপোরেশন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে।’
২০২৪ সালে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি শুরু হয়। তবে এটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পে বর্জ্য শুকানোর (বায়ো ড্রাইং) যন্ত্র স্থাপন করা হলে বর্জ্যের আর্দ্রতা কমিয়ে তা পৃথককরণ সম্ভব। পরে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জহোলসিম নিজেদের কারখানায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট অংশ দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা আছে।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) দেশে ফেরার কোনও সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়েছে। তিনি যেভাবেই দেশে আসুক না কেন, আসার সঙ্গে সঙ্গেই আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব রবিউল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন প্রমুখ।