‘পরের বছর থেকে হবে না শর্তে ২৮ আগস্ট হচ্ছে নৌকাবাইচ’

দিনভর উত্তেজনার পর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে আয়োজিত নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। তবে সমঝোতার অন্যতম শর্ত হিসেবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। 

এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও প্রতিযোগিতা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার এশার নামাজের পর বারইগ্রাম বাজারের পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র নিচতলায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি, স্থানীয়দের মতামত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, লাউতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দীন, জাসাস বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবক আব্দুল ওয়াহাব, লাউতা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও লাউতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এনাম উদ্দিন দিলাল, আব্দুল মালিক ও খালেদ আহমদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুব সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য যেন এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য নষ্ট না করে, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় যেকোনও সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মত দেন তারা। 

তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে তারা সমঝোতায় মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। একইসঙ্গে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে প্রতিবাদের বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ চেয়েছে আয়োজক সংগঠন বাহাদুর গাংপার যুব সমাজ। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না। উভয়পক্ষই এ সিদ্ধান্তে মত দেওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান হয়েছে।’

চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘এ বছরের আয়োজনকে ঘিরে যাতে নতুন করে কোনও বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

এদিকে, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘নৌকাবাইচ যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নৌকাবাইচকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান হয়েছে। এখন পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।’

এ বিষয়ে জানতে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, ‘বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে জেনেছি। তবে পরের বছর থেকে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না- এমন শর্তে এবার সমঝোতায় ২৮ আগস্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, এমন বিষয় আমার জানা নেই।’