হাম: সিলেটে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু

সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৪ জনের মৃত্যু হলো। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬ জন রোগী নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটের বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হামের রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনও হাম রোগী শনাক্ত না হলেও ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক ১৪৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ৬৭ জন, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন ভর্তি হয়েছেন। আর বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৯৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা চার শিশুই হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তারা হলেন- কানাইঘাটের ১০ বছর বয়সী এমরান হোসেন, জকিগঞ্জের সাত মাস বয়সী ওবায়দুল্লাহ, হবিগঞ্জের বাহুবলের ১০ মাস বয়সী সাফায়েত, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের তিন বছর তিন মাস বয়সী খাদিজা। তাদের মধ্যে এমরান হোসেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর বাকিরা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। আর সিলেট বিভাগে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে। 

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। তিনি বলেন, ‘গত তিন দিন কোনও মৃত্যু ছিল না। কিন্তু আজ একসঙ্গে দুই হাসপাতালে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। যারাই মারা গেছেন, তারা নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা করা হচ্ছে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি প্রতি উপজেলায়, যাতে করে অবস্থা বেশি খারাপ না হলে সেখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর সংকটাপন্ন হলে যেন শহরে পাঠানো হয়। কিন্তু, দেখা যায় আমাদের ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি এসে ওসমানী, শামসুদ্দিন হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। অনেকের অবস্থা ততটা খারাপ না থাকলেও এখানে আসেন আর চাপ বৃদ্ধি পায়। এটি তো একজনের দেহ থেকে অন্যজনে ছড়ায়। এভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।’