সকাল থেকে অবরুদ্ধ এক কলেজের ১৪ শিক্ষক, বদলি করেও কাজ হয়নি

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে মুক্তির দাবিতে ১২ ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছে এবং শিক্ষকরাও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনার মধ্যেই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানকে রবিবার বিকালে বদলি করে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এ প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। প্রশাসনিক ভবনের ফটক তালা থাকায় কলেজের অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক ভেতরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ আছেন আরও ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে শিক্ষকরা ওই ভবনেই আছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত দাবি ও আন্দোলন সত্ত্বেও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে কলেজটিকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কালক্ষেপণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চতর ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে থাকতে চান না। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনতা থেকে মুক্তি। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে মুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এদিকে কর্মসূচি চলাকালে বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কর্তব্যরত সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাহিদ ইকবালকে পদায়ন করা হয়। সোমবারের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীরা এ বদলির আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেবেন না। এমনকি নতুন বদলি হয়ে আসা অধ্যক্ষকেও তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবেন না। দাবি আদায়ের আগপর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।

এ বিষয়ে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা আসাদুজ্জামান বলেন, তারা বেলা ১১টা থেকেই আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখছে। এখন পর্যন্ত আমরা আটকা আছি। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানিয়েছি। আমাকে বদলির ওই প্রজ্ঞাপন বিকালে দেখেছি। কোন কারণে বদলি করা হয়েছে, সেটা জানি না।