সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিসিক সূত্র জানায়, গত দুইদিন থেকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো খালি করতে মাইকিং করা হচ্ছে। মাইকিংয়ে বলা হয়- ঝুঁকিপূর্ণ বাসায় বসবাস করা মোটেই নিরাপদ নয়। যারা ঝুঁকিপূর্ণ বাসায় বসবাস করছেন, তাদের জানমাল রক্ষার্থে দ্রুত বসবাস গুটিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
গত বুধবার (১৩ এপ্রিল) ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী-রিখটার স্কেলে সিলেট নগরীতে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৯। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসে সিটি করপোরেশন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহে দেয়া হয় নতুন করে নোটিশ। খালি করার নির্দেশ দেয়া হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। নির্ধারীত সময়ের মধ্যে ভবন খালি করা না হলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভেঙে ফেলারও সতর্ক বার্তা দেয়া হয় নোটিশে।
সিসিক সূত্র আরও জানায়, গত রবিবার সিলেট নগরীর তাঁতীপাড়ার চারতলার ৯ নম্বর বাসার মালিককে তার ঝুঁকিপূর্ণ বাসাটি খালি করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠায় সিসিক। তিনদিনের সময় বেঁধে দিয়ে বাসার মালিককে জানানো হয়েছে স্বেচ্ছায় তিনি বাসা খালি না করলে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশন বাসাটি ভেঙে ফেলবে। এর আগেও একাধিকবার ওই ভবন মালিককে নোটিশ দেয়া হলেও তিনি বাসা খালি করেননি।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, বুধবার ওই মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আমরা ভবনটি ভেঙে ফেলব।
এছাড়া, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন সিটি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও মার্কেট খালি করার নোটিশ দেয়া হয়েছে। ওই মার্কেটে প্রায় ৩৫০টি দোকান রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কেট খালি করে অন্যত্র সরে যেতে সিসিক’র পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারীত সময়ের মধ্যে সরে না গেলে সিটি করপোরেশন ‘অ্যাকশনে’ যাবে বলে নগর ভবন সূত্র জানিয়েছে।
এ দুইটি স্থাপনা ছাড়াও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাদেরকেও স্থাপনাগুলো খালি করতে সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। কালেক্টরেট ভবন-৩, এসএ রেকর্ড রুম, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিসসহ কয়েকটি সরকারি ভবনও ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইই বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রফেসর ড. জহির বিন আলম জানান, তাদের বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েক বছর আগে সিলেট নগরীর শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সায়েন্টিফিক অ্যাসেসম্যান্ট করা হয়। এ অনুযায়ী নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭-৩২টি ভবনকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে ২৩টি ভবনকে ‘ভয়ংকর’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এগুলোর ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাকি ভবনগুলোর মধ্যে কোনটা হেলে পড়েছে কিংবা দেবে গেছে, এগুলোর কাঠামো ঠিক করে ‘রিনোভেশন ওয়ার্ক’ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে, নগরীতে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন বানানো গেলে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হতে পারে। নগরীতে যেসব ভবন বিল্ডিং কোড ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে-সেগুলোর রেট্রোফিটিংয়ের ওপর জোর দেন এই অধ্যাপক।
সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. জহির বিন আলম জানান, সিলেট নগরীতে বর্তমানে দেড় লাখ বাসা-বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভূক্ত বাড়ির সংখ্যা মাত্র ৫২ হাজার। বাকি বাড়িগুলো অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বলে তার ধারণা। অবৈধভাবে অনুমোদন গ্রহণ এবং ভবন নির্মাণে বিশেজ্ঞদের তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের ইচ্ছেমত এসব ভবন ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। অবশ্য, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন অনুমোদন ছাড়া নগরীতে কোনও ভবন নির্মাণ করতে দিচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
/এআর/