ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিন (৫ জানুয়ারি) বিকালে 'ভার্চুয়াল সময়ের কবিতা' শিরোনামের সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান (পিএসআর) সেমিনার রুমে কবি জাহিদ সোহাগের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন কবি ও সাহিত্য সম্পাদক আলতাফ শাহনেওয়াজ, ওপার বাংলার কবি বিভাস রায় চৌধুরী ও কবি বনানী চক্রবর্তী, কবি লোকমান হাসনাত, কবি সাকিরা পারভিন এবং কবি সাইম রানা।
ভার্চুয়াল সময়ের কবিতায় সম্পাদকের দার মুক্তি ঘটেছে কিনা সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে কবি বিভাস রায় চৌধুরী বলেন, ‘কবিতার একটা প্রাতিষ্ঠানিকতার জায়গা আছে, কবিরা এমন একটা প্রাণী যে বন্ধনহীন। আমি যখন সব ফেসবুকে বা ব্লগে আমার মতো করে প্রকাশ করতে পারি, একটা স্বাধীনতা বোধ এনে দেই। আমাদের সমাজ ব্যবস্থাপনায়, নাগরিক জীবনের জায়গায় একটা বাধা দেওয়ার জায়গা ছিল কবিদের, এই ক্ষমতাটা নষ্ট হয়ে গেছে।'
সাহিত্য সম্পাদকদের কতৃত্ববাদের পতন ঘটেছে কিনা, সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ বলেন, 'প্রত্যেকটা পত্রিকার একটা নির্দিষ্ট পলিসি থাকে, সাহিত্য সম্পাদকের ব্যাপার থাকে, ভার্চুয়াল সময় আসার ফলে এ কর্তৃত্ববাদের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি লেখালেখি জিনিসটা একটা সম্পাদনা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে আসা জরুরি। আমি ফেসবুকটা একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি মনে করি। এখন ভার্চুয়াল মাধ্যম এসেছে। এর মধ্যে আমরা আর্ট, কবিতা কীভাবে চিনবো। আমাদের ভাবনা করা উচিত ভার্চুয়াল সময়ে আমাদের আর্ট, কবিতা কীভাবে ফেলবো।'
কবি লোকমান হাসনাত বলেন, 'কবি মানে সে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মাধ্যমে যে সমুদ্র গাহনে এক একটা শব্দকে সাজিয়ে দাঁড় করায় কবিতার এক একটা ভিত। কিন্তু ভার্চুয়াল সময়ে, আমাদের যে স্বাধীনতা আছে, আমার যা ইচ্ছে লিখলাম পোস্ট করে দিলাম। যা ইচ্ছা তাই লিখে পোস্ট করে দিলাম, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই কবিতা হলো না। সেল্ফ সেন্সরশিপ, বিবেক থাকতে হবে— আমি কোনটা ছাপবো, কোনটা ছাপবো না।’
কবি বনানী চক্রবর্তী বলেন, ‘চুরি-ডাকাতি না করে যদি কবিতা লেখা যায়, সেটা যদি ফেসবুকেও প্রকাশ করা হয়, তাহলে ক্ষতি কী? আমি মনে করি ভার্চুয়াল মাধ্যম খুব দরকার। ভার্চুয়াল মাধ্যম আমরা সারাবিশ্বের কবিদের সম্পর্কে জানছি। কবিতার ক্ষেত্রে অবিভাবকত্ব হবে না। সোশাল মাধ্যম একটা মুক্ত জায়গা, আমার স্বাদ অনুযায়ী আমি তুলে নেবো।'
কবি সিয়াম সাইম বলেন, 'আমি মনে করি চমৎকার একটা জাজমেন্টাল মিডিয়া হলো ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এই মিডিয়াতে সবার একটা স্বাধীনতা তৈরি হচ্ছে, সাহিত্যের প্রকাশ হচ্ছে, একটা কবিতা যদি অপ্রকাশিত থাকে তাহলে সে কীভাবে বুঝবে, কতটা কবিতা হলো। ভার্চুয়া মিডিয়া যদি পূর্ববর্তী মাধ্যমের উপর প্রভাব তৈরি করলেও এটা বয়কট করবো না আমরা, আমরা এটার সঙ্গে সমন্বয় করবো।
কবি সাকিরা পারভিন বলেন, 'ভার্চুয়াল জগত ব্যক্তিগত হিরোইজমকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সেটা ভালো এবং মন্দ দিক দুইটো নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। সম্ভবত সেটার উত্তর সেল্ফ সেন্সরশিপ, ব্যক্তিগত সম্পদনা। এটা সবার মধ্যে উঠছে কি উঠছে না এটা নিয়ে সম্পাদকদের মাথাব্যথা, সেটার ভালো এবং মন্দ দিক দুটোই আছে। যদি আমরা রবীন্দ্রনাথের রাজার রাজত্বে আনন্দিত হই, যদি একজন অনেক লিখে, খারাপ বা ভালো লিখে, তার মধ্যে হিরোইজম আসে; খ্যাতি পায়, তাতে সমস্যা কোথায়। '
সর্বশেষ সঞ্চালক জাহিদ সোহাগ বলেন, ‘ভার্চুয়াল মাধ্যম আমাদের হিরো আলমের মতো কবি দিয়েছে, মাহফুজুর রহমানের মতো গায়ক দিয়েছে, আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোনটা পড়বো কোনটা পড়বো না, কোনটা শুনবো কোনটা শুনবো না।’