প্রত্যেকের নিজের একটা বলার মতো গল্প থাকে। এই গল্পটা সবার বলা দরকার বলে মনে করেন ভারতীয় লেখক পারো আনন্দ। তিনি বলেন, ‘আমি জানি প্রত্যেকটা মানুষেরই তার নিজের গল্পটা বলা প্রয়োজন।...কিন্তু সেই গল্পে যেন এটা থাকে যে আমার কারণে কারও ক্ষতি হয়নি, কারও আঘাতে লাগেনি।'
ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বর্ধমান ভবন প্রাঙ্গণে ‘বিয়িং গান্ধী’ শিরোনামের সলো সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
সেশনের শুরুতে তিনি তার লেখা বই ‘বিয়িং গান্ধী’ থেকে কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়ে শোনান। পরে তিনি উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। দর্শক সারি থেকে লেখক জীবন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আমি শিশুদের জন্য মজার গল্পই লিখি, শিশুদের জন্য যেমন গল্প প্রয়োজন। তবে আমি গল্পতে দুইটা শিশুকে যুক্ত করে দিই। আমি যখন শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করি, তরুণদের নিয়ে কাজ শুরু করি; তখন গরিব ঘরের, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বা কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়, তাদের গল্পগুলো বলি। আমি জানি প্রত্যেকটা মানুষেরই তার নিজের গল্পটা বলা প্রয়োজন।'
অভিভাবকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি একজন মা, একজন দাদিও। আমার প্রথম দায়িত্ব সন্তানকে সুরক্ষা দেওয়া। তাকে শেখানো, তার কী করা উচিত—যখন তুমি কিছু খারাপ হতে দেখবে তখন তোমার জায়গা থেকে কিছু না কিছু করবে, যদি দেখো একটা কুকুরকে কেউ ঢিল মারছে তখনও।'
গান্ধীর সম্পর্কে তার অনুধাবন নিয়ে তিনি বলেন, 'বইটি লেখার আগে আমি গান্ধীকে নিয়ে এত বেশি জানতাম না। আমি দেখেছি পৃথিবীকে পরিবর্তন করার এটাই সবচেয়ে সরল উপায়। কিছু খারাপ দেখলেই কিছু করো। আমার বাচ্চারা এখন বিভিন্ন বিষয়ে আদালতে যাচ্ছে, তারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সামনে বসছে। তারা নিজেদের জন্য করছে শুধু এমন না, তারা সবার ভালো করছে।'
নিজের গল্পটা বলা কতটা দরকার এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'সবার একটা নিজের গল্প থাকে। আমি সবসময় মনে করতাম আমার জীবনটা আনন্দময় না। কিন্তু এখন খেয়াল করেছি এটাতেই আমি আনন্দ পাই। এটা গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন, আমার গল্পটা বলা দরকার। কিন্তু গল্পতে যেন এটা থাকে যে আমার কারণে কারও ক্ষতি হয়নি, কারও আঘাতে লাগেনি।'