মায়ের সঙ্গে ‘সিম্বা’কে খোঁজার গল্প শোনালেন মিথিলা কন্যা

পৌষের শীত জেঁকে বসেছে শহরে। রাত-দিনে তেমন ফারাক নেই, কুয়াশার আস্তরণ সবসময়ই। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চের বটের ডগায় তখনও সফেদ কুয়াশার আবরণ। নিশ্বাসে ধোঁয়া ওঠা এমন সকালেই মঞ্চে হাজির রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। সঙ্গে তার একমাত্র কন্যা আইরা। উদ্দেশ্য, দুজন মিলে শোনাবেন আফ্রিকা ভ্রমণের গল্প।

ঢাকা লিট ফেস্টের অংশ হিসেবে শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশুতোষ সেশন ‘অ্যাডভেঞ্চারস অব মম অ্যান্ড মি’। এতে মিথিলা ও তার মেয়ে আইরা ‘আফ্রিকায় সিংহের খোঁজে’ বইটি নিয়ে শিশুদের সঙ্গে গল্প করেছেন।

শুরুতেই বইটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত করেন মিথিলা। জানান, পেশাগত কাজে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ-শহরে যান। তেমনি গিয়েছিলেন আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায়। ওই ভ্রমণে তার সঙ্গী হন কন্যা আইরা। সেখানকার সাফারি পার্কে মা-মেয়ে জীববৈচিত্র্যের অপূর্ব দৃশ্য দেখে আসেন। এই অভিযানের গল্পেই সাজানো হয়েছে ‘আফ্রিকায় সিংহের খোঁজে’ বইটি।

ঢাকা লিট ফেস্টে এসে মিথিলা ও আইরা তাদের বইটি পড়ে শোনান দর্শক সারিতে বসে থাকা শিশুদের। মায়ের ভূমিকায় মিথিলা যখন সাফারিতে দেখা বিভিন্ন প্রাণীর বর্ণনা দিচ্ছেন, তার ফাঁকে ফাঁকেই আইরা বলে ওঠেন, ‘আমি মনে মনে সিম্বাকেই খুঁজছিলাম’।

সিম্বা কে? মিথিলা জানালেন, আফ্রিকায় সিংকেই বলা হয় সিম্বা। সাফারি অভিযানে আইরার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিংহকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু হাতি, জলহস্তি, হায়েনা কিংবা হরিণ সবই চোখে ধরা দিচ্ছিল, শুধু সিম্বাই অধরা।

তবে কি নিরাশ হয়েই ফিরতে হয় আইরাকে? না, বইয়ের শেষ অংশে গিয়ে জানা যায়, তানজানিয়ার সাফারিতে তারা লম্বা কেশরযুক্ত বিশাল সিংহকেও দেখেছেন। অন্যরা ভয় পেলেও সিংহ দেখে আইরার মনে রাজ্যের খুশি।

পড়ার পাশাপাশি বইতে থাকা ছবিগুলোও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান শিশুদের। যা দেখে আনন্দিত হয় তারা। সবশেষে শিশুদের কাছ থেকেও বিভিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শোনেন মিথিলা ও আইরা। বিপুল উৎসাহে কেউ শোনান দুবাই ভ্রমণের গল্প, কারও কণ্ঠে শোনা যায় জার্মানি সফরের স্মৃতি।

বেলা পৌনে এগারোটার দিকে সেশনটি শেষ হয়। এরপর মিথিলা ও আইরার সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা।

ঐতিহ্যের পুতুলনাচ

শিল্পের প্রায় সব অংশের সমন্বয়ে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’। তাই সাহিত্য, সংগীত কিংবা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি এতে রাখা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচের সেশনও। মিথিলা-আইরার অভিযান সেশনের পর নজরুল মঞ্চেই সাজানো হয় পুতুলনাচের সরঞ্জাম।324530952_556077509760796_6305079551277598268_n

বেলা ১১টা ২৫-এ শুরু হয় ‘লাল পরী, নীল পরী’ শীর্ষক এই সেশন। ‘চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় পরিবেশনা। কালো পর্দার সামনে হেলেদুলে নাচতে থাকে নানা রঙের পুতুল। এরপর একে একে ‘চলরে মন আপন দেশে’, ‘মন যদি চায় যেতে হারিয়ে’, ‘ধীরে ধীরে চল ঘোড়া’, ‘বাবু সেলাম বারেবার’ ইত্যাদি গানের সঙ্গে পুতুলনাচ পরিবেশন করা হয়।

ছবি: কামরুল ইসলাম