‘আমাদের চারপাশেই আছে গল্পের উপাদান’

ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘টুম্ব অব স্যান্ড’ শীর্ষক সেশনে রিফাত মুনীরের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুকারজয়ী ভারতীয় ঔপন্যাসিক গীতাঞ্জলী শ্রী এবং অনুবাদক ডেইজি রকওয়েল।

সেশনের শুরুতে সঞ্চালক নিজের বই ‘টুম্ব অব স্যান্ড’ বিষয়ে বলতে আহ্বান জানান লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী-কে। লেখকের মতে, চারপাশে সবসময়ই অনেক কণ্ঠস্বর ঘিরে আছে আমাদের। আমরা নিজেরাও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রকাশ করি আলাদা আলাদা স্বরে। এই বইয়েও পৃথক পৃথক অনেক কণ্ঠের বয়ান রয়েছে। আমাদের খুঁজে পেতে হবে নিজের স্বর, আর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা। এতে আমাদের সাহায্য করবে।

লেখার প্রক্রিয়া ও বিস্তৃত বিষয়াদি তিনি একসূত্রে কীভাবে তার লেখা গাঁথেন এই প্রশ্নের জবাবে গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশেই আছে গল্পের উপাদান, এরা আমার মাঝে প্যারালাল ইউনিভার্স তৈরি করে। গল্প হয়ে বেরোতে চায়। তখন আমি লিখতে বসি। একবার লেখা শুরু করলে গল্পই আমার লেখাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’ 

ডেইজি রকওয়েল হিন্দি ও উর্দু ভাষার সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তিনি ‘টুম্ব অব স্যান্ড’-বইটিরও অনুবাদক। তাকে তার অনুবাদের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু বলতে অনুরোধ করেন সঞ্চালক। তিনি বলেন, ‘যখন কোনও লেখা অনুবাদ করতে বসি, স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। আমি পুরোটা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এতেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই। এর আগে আমি ধ্রুপদী সাহিত্য অনুবাদ করেছি, সেখানে প্রশ্নের উত্তরগুলো নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়েছে। কিন্তু টুম্ব অব স্যান্ড অনুবাদ করতে গিয়ে আমি বারবার গীতাঞ্জলী শ্রী-কে প্রশ্ন করেছি, জানতে চেয়েছি সে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছে।’ 

গীতাঞ্জলি শ্রী তার অন্যান্য লেখার মতো টুম্ব অব স্যান্ড -এ শব্দ নিয়ে খেলেছেন অনেক। অনুবাদের ক্ষেত্রে তা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন তা জানতে চাইলে রকওয়েল ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ‘এই উপন্যাসের প্রতিটি অনুচ্ছেদই একেকটি শিল্পকর্ম। আমি চেষ্টা করেছি গীতাঞ্জলি সেখানে কী লিখতে চেয়েছেন তা নিজের মতো করে ভাবতে। মূল লেখার যে উপাদানগুলো সরাসরি ইংরেজিতে প্রকাশ করা সম্ভব নয় সেগুলোর কাছাকাছি ইংরেজি ভাষিক উপাদান আমি খুঁজে বের করে মূলের কাছাকাছি থাকতে চেষ্টা করেছি।’ 

দেশভাগের আখ্যান উঠে এসেছে এই উপন্যাসের বিভিন্ন অংশে। দেশভাগের গল্প মানেই সহিংসতা আর নৃশংসতার গল্প নয়। আমার উপন্যাসে দেশভাগের মানবিক দিকগুলোও এসেছে। আমি সেই প্রজন্মের গল্প বলেছি যারা দেশভাগ দেখেছেন এবং স্বাধীন দেশে বাস করার অভিজ্ঞতাও তাদের হয়েছে।