মাধ্যমিকের পাঠ্যবই সংশোধনে দু’টি কমিটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে পাঠ্যপুস্তক আরও সুখপাঠ্য আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে দু’টি কমিটি গঠন করেছে করেছে সরকার। মাধ‌্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষাবিদদের প্রস্তাবিত ১৫ দফা সুপারিশের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করে ৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করা হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুসরাত জাবীন বানু স্বাক্ষরিত আদেশটি রবিবার জারি করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে গঠিত কমিটি দু’টি ২০১২ সালের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই আরও পাঠযোগ্য করতে সুপারিশ দেবে। এই দু’টি কমিটির  একটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনজুর আহমদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তানজীল আশ্রাফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা।

এই কমিটিতে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামানকে সদস্য সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদকে কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন ও পরিমার্জনের বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়।

এদিকে, নবম-দশম শ্রেণির কয়েকটি বই পরিমার্জন করতে গঠন করা কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক এম এম আকাশ, বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম, উদ্দীপন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে।

 এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ইনামুল হক সিদ্দিকীকে এই কমিটির সদস্য সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এই কমিটিকে নবম-দশম শ্রেণির কয়েকটি পাঠ্যবই নির্বাচন করে সেগুলোকে পরিমার্জনের জন্য একটি ‘টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে বলা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির আগেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো যায় সে লক্ষ্যে এই সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তকগুলো পরিমার্জনের মাধ্যমে সহজ, সুখপাঠ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই কমিটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিলেও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন করবে জাতীয় কারিকুলাম কো-অর্ডিনেটর কমিটি (এনসিসিসি।

উভয় কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘রাষ্ট্রকে কর না দিলে পরপারে হিসাব দিতে হবে’

/এসএমএ/এমএনএইচ/