বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে: ইউজিসি

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য ড. একেএম নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘ইউজিসি গঠিত  তদন্ত কমিটি বেরোবির উপচার্যের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে ইউজিসির গঠিত কমিটি বেরোবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।

এর আগে ২০১৬ সালের ৬ মার্চ উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি প্রাথমিক একটি তদন্ত করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২ আগস্ট ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে তিনি সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  ইউজিসির গঠিত সর্বশেষ কমিটি বেরোবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভর্তি পরীক্ষা ও আপ্যায়নের টাকা নিয়ে অনিয়ম, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের স্বেচ্ছাচারিতা, উপাচার্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, একসঙ্গে ১৪টি পদ ধরে রাখা, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।  ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে সুপারিশ করবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নূর-উন-নবীকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রটি জানায়।

তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য একেএম নূর-উর-নবী। তিনি বাংলা ট্র্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মেয়াদ প্রায় শেষ। ভিসির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সমিতির একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে নানা যড়যন্ত্র শুরু করে আসছে। আমার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অননুমোদিত কিছু নিয়োগের বৈধতা ইস্যুতে তারা আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। হাইকোর্টে রিট থেকে শুরু করে এমন কোনও কাজ নেই, যা তারা আমার সঙ্গে করেননি।’

এ বিষয়ে ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করার জন্য কমিটি করে দিয়েছিলাম। কমিটি দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।’

এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের চাকরির দাবিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রলীগের  কয়েকজন নেতাকর্মী। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, ‘যোগ্যতার আলোকে ছাত্রলীগের নেতাদের অ্যাডহক ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার জন্য উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। উপাচার্যও চাকরি দেবেন বলেও কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি আর হয়নি। কারণ ৫ মে তার চাকরির মেয়াদের শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়ে এই আন্দোলন করছি।’

/আরএআর/এমএনএইচ/