ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নিলে ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করে ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে তারা এই আন্দোলন ভণ্ডুল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া আন্দোলন সমন্বয়কারী মশিউর রহমান সাদিককে চড়-থাপ্পর দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করারও খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ১৭ জানুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু বাম সংগঠনের নেতাকর্মী ও ডাকসু আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা বিচারের দাবি জানিয়ে প্রক্টর অফিস ভাঙচুর করেন। এ সময় প্রক্টর অধ্যাপক ড.এ কে এম গোলাম রব্বানিকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রক্টর আন্দোলনকারীদের উপাচার্যের কাছে নিয়ে গেলে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।
ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদাকে। এছাড়া কমিটিতে সিনেট সদস্য অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দারকে সদস্য ও সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আবু হোসেন মোহাম্মদ আহসানকে সদস্য সচিব করা হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নারী নির্যাতনের তথ্য, উপাত্ত, ছবি কিংবা ভিডিও সংরক্ষণ করছেন এমন শিক্ষার্থী ও নির্যাতিতদের রবিবার রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে এতে। সেই অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটিতে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী কমিটির কাছে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে উপস্থিত হন। তারা সবাই গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়া একজন ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এসে আমাদের পাঁচ-ছয় জন প্রতিনিধি নিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। কিন্তু আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এর কিছুক্ষণ পরে পলিটিক্যাল ছেলেরা এসে আমাদের ঘিরে ধরে। ছাত্রদের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেয়। মেয়েদের ঘিরে দাঁড়িয়ে তারা লাথি মারছিল, হাসিঠাট্টা ও বাজে মন্তব্য করছিল। আমি বেশিক্ষণ থাকতে না পেরে একপর্যায়ে চলে আসি।’
এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর আবু হোসেন মুহম্মদ আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। শিগগিরই এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
আরও পড়ুন-