সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শহীদ মিনারে শিক্ষকরা

বাড়িভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে হাজার হাজার শিক্ষককে অবস্থান নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। 

শিক্ষকরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় অর্থবিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে দুই ঘণ্টার জন্য স্থগিত রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীসহ শিক্ষক প্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে গেছেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষকরা মার্ট টু সচিবালয় কর্মসূচি পিছিয়ে দেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত না পেলে বেলা ২টার পর ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু হবে। শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে রওনা দেবেন।”

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষক নেতারা মন্ত্রণালয়ে গেছেন। আমরা শহীদ মিনারে অপেক্ষা করছি।’

জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের নেতারা জানান, ‘শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবো। শিক্ষকদের ওপর আগের মতো যদি হামলা হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

প্রসঙ্গত, মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সারা দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজে ক্লাস কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব। শিক্ষকদের দাবি ছিল শতভাড় বাড়িভাতা। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা বৃদ্ধি ও সর্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। অথচ এখনও মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

গত রবিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ শিক্ষকদের সরাতে গেলে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

শিক্ষকরা জানান, রবি ও সোমবার রাতভর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষকরা অবস্থান করেন। কেউ প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানার মাথার নিচে দিয়ে রাত কাটাতে দেখা গেছে।

শিক্ষকরা বলছেন, প্রজ্ঞাপন কিংবা ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি চলবে।