থালা-বাটি নিয়ে বিক্ষোভ, মাজার গেটে শিক্ষক ও পুলিশ মুখোমুখি

লাগাতার আন্দোলনের মুখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া বাবদ ভাতা মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে থালা-বাটি হাতে ভুখা মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের রওনা দেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে শিক্ষা ভবনে পৌঁছার আগেই হাইকোর্টের মাজার গেটে ব্যারিকেট দিয়ে তাদের আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। তিনি বলেন, বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিকাল তিনটা থেকে থালা-বাটিসহ ভূখা মিছিল নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের যাবেন। শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপণের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ১৩ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অর্থবিভাগের ৫ শতাংশ ভাতা দেওয়ার চিঠিতে বলা হয়, ‘ভাড়িভাড়া নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া অর্থ বিভাগের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা বৃদ্ধিতে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রদান’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) প্রদান করা হলো। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ হারে বাড়ি ভাড়া কার্যকর হবে।

গত ১২ অক্টোবর তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সেখানে পুলিশি নির্যাতনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। একইসঙ্গে সারা দেশে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি গত শুক্রবার থেকে অনশন কর্মসূচিও শুরু করেছেন শিক্ষকরা। এছাড়া দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১৩ অক্টোবর থেকেই কর্মবিরতি পালন অব্যাহত রয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আশ্বাস বিএনপির

এমপিওভুক্ত শিক্ষাকরা বিএনপি নেতা মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিএনপির এই নেতার সঙ্গে দেখা করার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ করার আশ্বাস দিয়েছেন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেন । আমরা ওনাকে বলেছি, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। অর্থ সচিব আসার পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবো শহীদ মিনারে।