শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি: অধিদফতর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। অবিলম্বে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৫ ও ১২ নভেম্বরের বিজ্ঞাপনের আলোকে ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষা এক হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে গত ৯ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী শিক্ষককের ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং মোট আট লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা মনিটরিং কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহায়তায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কোনও জেলা থেকে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। যথাযথভাবে পরীক্ষা পরিচালনায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে অসদুপায় অবলম্বন ও ডিভাইস ব্যবহারের অপরাধে দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এছাড়া ভুয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আটক ও মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেড় শতাধিক ব্যক্তি গত ১১ জানুয়ারি প্রশ্ন ফাঁসসহ অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি দাখিল করেন। আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পাদন করে এবং উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন প্রদান করে।

এই পরিস্থিতির আলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।