প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ-বদলি জেলা পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০৭আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০৭

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি এড়াতে মন্ত্রণালয় নয়, বরং জেলা পর্যায়ে নিয়োগ ও বদলিসহ সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমি (নেপ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠানটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রত্যেকটি স্কুলকে একটি অটোনোমাস বডির মতো গড়ে তুলতে হবে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় খুব ভালোভাবে শিক্ষাদান করছে। আমি নিজেই বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করার আগে বিশ্বাস করতাম না, যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এত ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের শিক্ষকরা অর্থমূল্যে বেশি কিছু পান না, তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। যেসব স্কুলে ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়, সেসব স্কুলের কমিউনিটির মানুষ শিক্ষকদের সম্মান করেন।

উপদষ্টা আরও বলেন, একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক টিমওয়ার্কের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে কাজ করেন। তাই স্কুলগুলো অটোনোমাস বডির মতো কাজ করলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় জানান, সরকার স্কুলে বাজেট দেবে, ইনপুট দেবে এবং একটি তৃতীয় পক্ষ একটি পরিবীক্ষণ ইউনিট হিসেবে অ্যাকাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট করবে। তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অর্জন কেমন হচ্ছে, তা বিষয়ে গবেষণা করবে এবং মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ দেবে।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় আছে, মন্ত্রণালয় নয় বরং জেলা পর্যায়ে নিয়োগ ও বদলি করা। এতে শিক্ষকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আরেকটি সমস্যা ম্যানেজমেন্টে। বড় বড় কথা বলা হয়, ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হয়, কিন্তু সব জায়গায় ফাঁকি থাকে। কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, কিন্তু সব জায়গায় আপডেটেড ডাটা পাওয়া যায় না। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হলে মানুষের জীবন সহজ ও স্মার্ট করা সম্ভব, কিন্তু প্রয়োগে সমস্যা। কাজেই শিক্ষকদের যে সময় নষ্ট হয়, তা কমিয়ে কীভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো যায়, সেটি আমাদের ভাবনার বিষয়।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় আরও বলেন, শিক্ষা খাতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো একটি বড় বাস্তবতা। এটি এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়; জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

/এসএমএ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
৩৭ লাখ টাকায় স্কুল ভবন নির্মাণ, নেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি
ইউনূস সরকার বাতিল করলেও প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার 
‘প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ জন শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বে না’  
সর্বশেষ খবর
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম