প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না; হাতে-কলমে কাজ করে এবং খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শেখার সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ এবং হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।
পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এসব ল্যাবে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে।
ভিত্তিগত শেখায় জোর
ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, কোনও শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষায় ফেরাতে উদ্যোগ
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
মিড-ডে মিল প্রকল্পে সংশোধনের উদ্যোগ
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রকল্প হতে হবে বাস্তবভিত্তিক
প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর না করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে। তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। তবে প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময় ধাপে ধাপে কীভাবে কাজ হচ্ছে এবং কীভাবে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।