শিক্ষার্থীদের নিজ নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বিশেষ করে শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বোর্ড।
রবিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীর তথ্য সংশোধনের বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়; এর সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মজীবন ও সরকারি নথিপত্রের নির্ভুলতা সরাসরি জড়িত। তাই অসতর্কতা, অবহেলা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে বোর্ড বলেছে, শিক্ষার্থীর ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সময় জন্মনিবন্ধন সনদ ও অন্যান্য প্রামাণিক দলিল যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনও তথ্য লিপিবদ্ধ বা বোর্ডে পাঠানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডে তথ্য সংরক্ষণ এবং বোর্ডে পাঠানোর আগে সেগুলোর নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। এক্ষেত্রে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বোর্ড বলেছে, সন্তানের বয়স কমানো বা বাড়ানো, নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনও সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সময় ও বিভিন্ন প্রামাণিক দলিলের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুরুতেই সঠিক তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।
শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামসহ সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হবে। কোনও ভুল ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ প্রকাশের পর তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন কোনও স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিষয় নয়। যথাযথ কারণ ও প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতেই সংশোধনের আবেদন করতে হবে। ব্যক্তিগত সুবিধা, চাকরির বয়সসীমা, বিদেশে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা পরিহার করে শুরুতেই নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সঠিক তথ্য দিন, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করুন, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখুন।”