অবসর ও কল্যাণ সুবিধা তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় শিক্ষকরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকছেন, এ বিষয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ‘২৭ হাজার শিক্ষকের চোখের জল মুছতে লাগবে ৫শ’ কোটি টাকা’ এই শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বর্তমানে শিক্ষকদের বেতন থেকে অবসরের জন্য ৪ শতাংশ ও কল্যাণ-সুবিধার জন্য ২ শতাংশ টাকা কেটে রাখা হয়। কিন্তু এবার টাকার অংক বাড়িয়ে প্রতিমাসে একেকজন শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ ও কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ টাকা কেটে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষককল্যাণ বাবদ বছরে ১০০ টাকা করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধার জন্য ৬০ ও কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষককল্যাণ বাবদ কোনও টাকা নেওয়া হয় না। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক সময় শিক্ষককল্যাণ বাবদ ৫ টাকা নেওয়া হতো। ২০০৪ সালের আগে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ সুবিধা বোর্ড সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। গত ১৫ মার্চ অবসর সুবিধা বোর্ড ও ৯ মার্চ কল্যাণ সুবিধা বোর্ডের পৃথক দুটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সুপারিশ আকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
অবসর ও কল্যাণ সুবিধা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাদের পাওনা পরিশোধ করতে ৫শ’ কোটির বেশি টাকা প্রয়োজন, যা এখন তহবিলে নেই। অন্যদিকে নতুন বেতন স্কেলের কারণে এখন প্রাপ্য টাকার পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে। ফলে এই তহবিলে টাকা বাড়ানো গেলে শিক্ষকদের নিয়মিতভাবে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।
কল্যাণ সুবিধা বোর্ডের সদস্যসচিব শাহজাহান আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়ার হার বাড়ালেই হবে না, আইন অনুযায়ী তহবিল সংগ্রহে সরকারকেও টাকা দিতে হবে।
সারাদেশে এমপিওভুক্ত (সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ পান) শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার। অবসরের পরপরই টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এ জন্য এখন তাদের চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের প্রাপ্য টাকা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।
বর্তমানে ৪১ হাজার ৪৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধার টাকা পেতে অবসর সুবিধা বোর্ডে আবেদন করেছেন। কিন্তু অর্থ সংকটে সব আবেদনই অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কল্যাণ সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার।
এ দুটি বোর্ডেরই সভাপতি শিক্ষাসচিব। জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসেইন বলেন, এগুলো কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাবের পর্যায়ে আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা যাওয়ার পরে আলোচনা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে শুধু শিক্ষকদের চাঁদা বাড়ালেই হবে না, সরকার থেকেও টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
/আরএআর/এজে/