‘শিষ্টাচার শেখার ক্ষেত্রে আমার শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য’

ছোটবেলায় আমি মিশনারি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছি। পরবর্তী সময়ে দেশে এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে। জীবনের এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় অনেক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের আন্তরিকতা দেখেছি। সেই আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না।

তবে ছোটবেলার শিক্ষকদের কথা আমার কাছে একটু আলাদা। স্কুলে পড়ার সময় আমরা খুব সহজভাবেই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তখন ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের ভেদাভেদ হতে দেখিনি। এমনকি বন্ধুত্বের সঙ্গে ধর্ম বা অর্থের কোনো যোগাযোগ আছে, সেটাও আমরা বুঝিনি। বন্ধুত্ব যে আলাদা একটি বিষয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে একজন আরেকজনকে আপন করে নিতে পারে; এসব আমরা সেই ছোটবেলাতেই শিখেছি।

আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, এসব শেখার পেছনে আমাদের শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অনেক বড়। বিশেষ করে শিষ্টাচার শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তাঁরা শুধু পড়াশোনার বিষয় শেখাননি, কীভাবে অন্য মানুষের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, কীভাবে একজন মানুষকে সম্মান করতে হয়, কীভাবে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার জায়গাটি তৈরি হয়; সেসবও শিখিয়েছেন।

শৈশবে হয়তো আমরা এসবের গুরুত্ব বুঝিনি। তখন মনে হয়েছে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বড় হওয়ার পর বুঝেছি, একজন শিশুর ভেতরে এই বোধগুলো তৈরি হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাটিতেই শিক্ষকদের ভূমিকা আলাদা করে মনে পড়ে।

আজকের এই দিনে আমি আমার সব শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। সবাই ভালো থাকুন। আর তাঁদের যেসব ছাত্রছাত্রী রয়েছেন, তাঁদের সন্তানতুল্য ভেবে বড় করবেন; এই প্রত্যাশা রাখি। বিশেষ করে যারা নতুন করে শিক্ষক হয়েছেন এবং যারা এই জীবনটা বেছে নিয়েছেন, তাঁদের কথা আলাদাভাবে বলতে চাই। আমি মনে করি, শিক্ষকতা বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁরা অত্যন্ত বড় একটি কমিটমেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন।

কারণ একজন শিক্ষক শুধু একটি বিষয় পড়ান না। ছাত্রছাত্রীরা তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। কখনও সরাসরি, কখনো অজান্তেই। একজন শিক্ষকের আচরণ, তাঁর কথা বলার ধরন, অন্যের প্রতি তাঁর সম্মান; এসবও শিক্ষার্থীদের মনে থেকে যায়। আমার নিজের শৈশবের দিকে তাকালে সেই শিক্ষাগুলোই বারবার মনে পড়ে। তাই আমার সমস্ত শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন। তাঁরা আমাদের সবার জীবন গড়ে তোলায় একটি অনন্য ভূমিকা পালন করছেন।

তাঁরা ভালো থাকুন। তাঁদের হাত ধরে আরও অনেক শিশু মানুষ হয়ে উঠুক; এই প্রত্যাশাই থাকবে।

—রিজিওনাল ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড সাউথ এশিয়া