কলেজ প্রশাসন পুলিশ ডাকেনি দাবি শিক্ষার্থীদের, মধ্যরাতে হামলার তদন্ত চান তারা

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (পূর্বনাম হোম ইকোনমিকস কলেজ) ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে পুলিশের লাঠিপেটা ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ এনে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ডাকা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও ছিল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। তাহলে কার নির্দেশে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব চান তারা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিন এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সভায় উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিন জানান, তিনি অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছা বেগমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। যেখানে অধ্যক্ষ তাকে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা তাকে (অধ্যক্ষ) কোনও ধরনের শারীরিক আক্রমণ বা হেনস্তা করেননি। এছাড়া সভায় উপাধ্যক্ষ ও উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অরাজনৈতিক, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিন ও উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানরা জানান, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশের বিষয়ে কলেজ প্রশাসন আগে থেকে কিছুই জানতো না। এমনকি কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে ক্যাম্পাসে ডাকারও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশ না ডেকে থাকলে কার নির্দেশে এবং কার অনুমতিতে গভীর রাতে একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ প্রবেশ করেছিল? কোনও আইনি এখতিয়ার ও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা চালানো হলো কেন?

এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। ওই দিন মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলার ঘটনার পর তারা শুক্রবার ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। আজ শনিবার সেই আলটিমেটামের দ্বিতীয় দিন চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দুটি প্রধান দাবি হলো– অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছা বেগমের পদত্যাগ এবং মধ্যরাতে পুলিশি হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।