অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬

অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর আজিমপুরে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) শিক্ষার্থীরা। দুই দফা দাবি বাস্তবায়নে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ‘জেগেছে রে জেগেছে, হোম ইকোনমিক্স জেগেছে’, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, জবাব চাই’ এবং ‘আমার বোন আহত কেন, জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে এবং অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না।

দ্বিতীয় দাবি হলো, মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ, লাঠিচার্জ ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তারা। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন তারা।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপরও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাদের সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়।

অধ্যক্ষকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রীদের চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামানো, লাঠিচার্জ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন থেকে চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একজন ছাত্রী পুলিশের পায়ের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এছাড়া কলেজের আবাসিক হলে প্রবেশ করে পুলিশ ছাত্রীদের মারধর ও লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তাদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়। অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের সহপাঠীরা আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে নির্ধারিত চাকরির পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দিতে চান। একইসঙ্গে পরীক্ষার কারণে অধ্যক্ষ যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারেন, সে দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রথমে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরে ওই দুই শিক্ষার্থী ক্ষমা চাইতে গেলে তাদের আবাসিক আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছেন। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইলে তিনি নমনীয় হন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি।

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের সই করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করবো?

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, অধ্যদক্ষ্যের পদত্যারগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে আন্দোলন করছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।

/এসএনকে/আরকে/
সম্পর্কিত
‘বাপের রাস্তা’: ঢাকার সড়ক বিশৃঙ্খলার এক ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি
আজ সারা দেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস
সকালে আবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে হলে ফিরলেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা
সর্বশেষ খবর
মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন
পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন
স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির ৭ স্বজনকে হত্যা করলো ক্যাব চালক, অভিযোগ পরিবারে হস্তক্ষেপ
স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির ৭ স্বজনকে হত্যা করলো ক্যাব চালক, অভিযোগ পরিবারে হস্তক্ষেপ
অস্থিরতার রেশ কাটিয়ে স্বাভাবিক আশুলিয়া, চালু ৮৮ কারখানা
অস্থিরতার রেশ কাটিয়ে স্বাভাবিক আশুলিয়া, চালু ৮৮ কারখানা
সর্বাধিক পঠিত
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া সিমে তিন দিনে ২ কোটি লেনদেন, যুবক গ্রেফতার
১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া সিমে তিন দিনে ২ কোটি লেনদেন, যুবক গ্রেফতার
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ফারজানা আফরোজ
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ফারজানা আফরোজ
ক্লাসরুমে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে টিসি
ক্লাসরুমে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে টিসি
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?