শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের তথ্য চেয়েছে মাউশি

স্কুল-কলেজে সহশিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের তথ্য চেয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর। সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) মাউশির পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) অধ্যাপক টিপু সুলতানের সই করা এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত্র নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মাউশির আওতাধীন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশের তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, চিত্রাঙ্কন ও সংলাপসহ অন্যান্য আয়োজনের তথ্য দিতে হবে। এসব কার্যক্রমের তথ্য গ্রামীণ, শহর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত ছকে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সেবা কার্যক্রমের তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক কার্যক্রমের বিবরণও দিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতিচর্চার নিয়মিত কার্যক্রমের তথ্যও চেয়েছে মাউশি। এ ছাড়া চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার, ইসলামের সঠিক চর্চা ও নেতিবাচক প্রচার রোধ, মাদক ও জুয়ার নেতিবাচক প্রভাব এবং সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিবরণ দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে গঠিত মাদক প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম ও তদারকির মাসিক প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।

মাউশির চিঠিতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের নির্ধারিত তথ্যছক পূরণ করে আগামী ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের মধ্যে পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে অতীব জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।