তার জন্মদিন উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সারাদিন বিভিন্ন আয়োজন থাকছে। চ্যানেল আইতে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়ে থাকছে ফিরোজা বেগমকে নিয়ে কথোপকথন। এতে অংশ নেবেন ফিরোজা বেগমের দুই সন্তান সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক।
বিকেল ৪টায় ‘ফিরোজা বেগম স্বর্ণপদক-২০১৬’ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন থেকে। প্রথমবারের মতো পুরস্কার পাচ্ছেন সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
শৈশবেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জন্মে ফিরোজা বেগমের। ১৯৪০-এর দশকে তিনি সংগীতের জগতে আসেন। ফিরোজা বেগম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে ইসলামি গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর বিখ্যাত সুরকার কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রিত ভরে শুনাউ' আর 'প্রিত শিখানে আয়া'। দশ বছর বয়সে ফিরোজা বেগম কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করেন। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি ৩৮০টির বেশি একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। নজরুলসংগীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাতসহ বিভিন্ন ধরনের সংগীততে কণ্ঠ দিয়েছেন। এমনকি তাকে রবীন্দ্রসংগীতেও পাওয়া গেছে। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।
তার স্বামী কিংবদন্তি সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্ত। এ দম্পতির তিন সন্তান - তাহসিন, হামিন ও শাফিন আহমেদ। হামিন ও শাফিন- উভয়েই ব্যান্ড সংগীতের জন্য খ্যাত।
সংগীতে অবদান স্বরূপ ফিরোজা বেগম স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বর্ণপদক, ভারতের নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
/এম/