শাহরুখের চরিত্রের নানাদিক নিয়ে সম্পতি অনলাইনে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক মাধ্যম ‘কোরা’য় কথা বলেছেন তার সাবেক এক নারী কর্মচারী। ব্যক্তিগত জীবনে শাহরুখের চরিত্র কেমন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ তারকার ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয়ের অবতারণা করেন তিনি। তবে নিজের নাম কিংবা পরিচয় জানাতে চাননি শাহরুখের সঙ্গে বছরখানেক কাজ করা এ নারী।
ওই নারী কর্মচারীর জবানিতে শাহরুখের চরিত্রের সাত দিক:
০১. তিনি একজন ভদ্রলোক। তিনি সর্বোচ্চ মাপের একজন সুপারস্টার। এটা একবিংশ শতাব্দী; কিন্তু আমার মতো নারী কর্মীদের জন্য এখনও তার দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকে।
০২. ভক্তদের উন্মাদনা কখনও মিস করতে চান না শাহরুখ। প্রতিদিন সকালে যখন তিনি কার নিয়ে বেরিয়ে যান; তখন তিনি এটা জানেন যে, গেটের বাইরে তার জন্য কিছু ভক্ত অপেক্ষা করবেন। কিন্তু তিনি কখনও তাদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন না। যেটা অন্য তারকাদের বিপরীত।
০৩. দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য তার একটি বিশেষ বিভাগ রয়েছে। এই ক্ষুদে বিভাগই তার সব দাতব্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। টুইটারের সাহায্যেও প্রকৃত সাহায্যপ্রার্থীর খোঁজ নেয় এ বিভাগ। এমনকি এ বিভাগের আলাদা কোনও পিআর বা গণসংযোগ ম্যানেজার নেই। ফলে তাদের কর্মকাণ্ড খুব কমই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
০৪. শাহরুখ খান পরিবারের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ না হলে এবং তার অনুমতি ছাড়া তার ‘ফ্যামিলি টাইম’-কোনও পরিবর্তনের ক্ষমতা আমাদের ছিল না। তার সন্তানরা যখন ভারতে থাকে, তখন দিনের একটা সময় তাদের পেছনেই কাটে তার। ওই সময়ে আমরারও কাজের ব্যাপারে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেতাম না।
০৫. তিনি একজন ভোজনরসিক মানুষ। তার পছন্দের রেস্টুরেন্টের মধ্যে আছে দিল্লির ‘সিতারাম দিওয়ান চান্দ ছানা ভাটুরা’। একবার আমি দিল্লি থেকে মুম্বাই আসার সময় সেখান থেকে দুই প্যাকেট খাবার আনি। করিডোরে এটা শুনে তিনি শিশুসুলভভাবে এটি আমার কাছ থেকে চাইলেন। বললেন, আমি যেন মধ্যাহ্ণভোজের সময় তাকে জানাই।
শাহরুখ বলেন, তিনি বহুদিন এটা খাননি এবং এটি খাওয়ার জন্য তিনি উতলা হয়ে আছেন।
ওই নারী কর্মচারী বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছিল তিনি মজা করছেন। কিন্তু না! এটা আসলে মজা ছিল না। লাঞ্চ ব্রেকে তিনি ক্যাফেটেরিয়ায় আসলেন। টেবিলে বসে আমার সব ‘ছোলা বাটোরা’ শেষ করলেন! সাধারণত ডায়েট করলেও সেদিন ছিল এর ব্যতিক্রম।
০৬. তিনি বেশ বিনয়ী। একবার আমি দুর্ঘটনাবশত তার ১১ লাখ রুপির জ্যাকেটে কলমের দাগ বসিয়ে দেই। তার সহকারী আমার দিকে তেড়ে আসেন। কিন্তু তিনি বললেন, ইটস ওকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আমাকে ভবিষ্যতে আরও সাবধান হতে বললেন।
০৭. তিনি কঠোর পরিশ্রমী। বছরের একটা বড় সময়েই তিনি ভারতে থাকেন না। তবে নিজের কাজের বিষয়ে তিনি সবসময়ই সচেতন। কাজের বিষয়ে আমি তাকে যেকোনো সময়েই জানাতে পারতাম।
/এমপি/এম/