জিয়া খান মৃত্যু মামলায় নতুন মোড়?

জিয়া খান ও সুরজব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে উত্তেজনা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। নিজ বাসা থেকে জিয়া খানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের তিন বছর পর তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ব্রিটিশ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জ্যাসন পাইন জেমস।
তার দাবি, জিয়া খান আত্মহত্যা করেননি। পুরো ঘটনাটি সাজানো। তাকে পরিকল্পিতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আর তার এ দাবি ভারতীয় তদন্তকারীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় জিয়া খানের মৃত্যু রহস্য আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের দাবি, জিয়ার গলায় ও মুখে যে ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল তা দিয়ে বোঝা যায় এটা কোনও সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা নয়। জিয়া খানের মুখে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যায় কেউ তাকে ঘুষি মেরেছে কিংবা মুখ চেপে রেখেছিল। অবশ্য ভারতীয় তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, জিয়া খানের নিচের ঠোঁটে যে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে তা আত্মহত্যার সময় জিয়ার দাঁতের চাপ লেগে হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ জুন নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জিয়া খানের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিনেত্রী জিয়া খান বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে প্রেম করতেন। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে জিয়া সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছিলেন সুরজের সঙ্গে। তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল বলে জানা যায়। মৃত্যুর আগে জিয়া খান তার নোটে প্রেমিক সুরজের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ করেন। এর মধ্যে প্রতারণা, ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মতো বিষয়ও ছিল।

জিয়া খানের মা রাবিয়া দাবি করে আসছেন তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। এ নিয়ে বোম্বে হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের করেন তিনি। সম্প্রতি সিবিআই বোম্বে হাইকোর্টে এই মামলা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, এই মৃত্যুর সঙ্গে হত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। ভারতীয় তদন্তকারীদের ওপর আস্থা না থাকায় পরে ব্রিটিশ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন রাবিয়া। সেই বিশেষজ্ঞ জিয়ার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, জিয়ার সেইমুহূর্তের ছবি ও ঘরের ছবি খতিয়ে দেখেন। এরপরই নতুন এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো।

 

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

/এফইউ/এম/