নাট্যজন আতাউর রহমান।গতকাল মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বজন-বন্ধু-দুর্জনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক। ক্যান্সারে আক্রান্ত এ কবি জীবন সায়াহ্নে বলেছেন, ‘কত লেখা এখনও বাকি’। লেখা হলো না বটে, কিন্তু সৈয়দ হকের অসামান্য অবদানগুলো রয়ে গেল বইয়ের পাতায়, রূপালি পর্দা এবং নাট্যমঞ্চে।
তারকা দম্পতি আলী যাকের ও সারা যাকের।আজ বুধবার বেলা এগারোটা থেকে বেলা ১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সব্যসাচীকে শেষ বিদায় জানালেন তার ভক্ত অনুরাগীরা। বেলা ঠিক ১১টার দিকে শহীদ মিনারে মরদেহ আনা হলে বেজে ওঠে গত জুনে লেখা তারই কবিতা- ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাবো তোমার রুমালে/ ধূপের গন্ধের মতো তোমাদের শান্ত সন্ধ্যাকালে/ সমস্ত দিনের শেষে থেকে যাবো নদী পারাপার/ তখনও যাত্রীর দেখা পাওয়া যাবে এই নদী পার।
অভিনেত্রী-নির্মাতা নিমা রহমান।তাঁকে বিদায় জানাতে দেশের প্রায় সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি নাট্যাঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যারা কথা বলেছেন ঠিকই, অথচ মনে হয়েছে কবির প্রস্থানে সবাই মূলত ভাষাহীন, একা এবং অসহায়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার তার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘তিনি যে জায়গায় হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। তার প্রায় পৌনে ২০০ কবিতা, ৮টি গল্পসহ অসংখ্য রচনা রয়েছে। তিনি জীবনে সময়ের অপচয় করেননি। তিনি তার যে সৃষ্টি রেখে গেছেন তা বাংলা সাহিত্যের জন্য বিপুল সম্ভার। আমরা সেগুলো পড়লে সমৃদ্ধ হবো। তার রচিত মঞ্চনাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। সবচেয়ে বড় কথা তার বুকে ছিল বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু।’’
অভিনেতা-নির্মাতা জাহিদ হাসান।নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘‘বাংলা কাব্য সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি যেই ধারার লেখক এ ধরনের লেখকের নাটক জনপ্রিয় হয় বিষয়টি তা নয়। কিন্তু সেটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার নাটকগুলো ছিল উচ্চমানের। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনে বসে শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ নাটকের অনুবাদ করেছেন।’’অভিনেতা-সংগঠক তারিক আনাম খান।চলচ্চিত্রকার নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘মিছিলের মানুষ, পরামর্শের মানুষটি হারিয়ে গেলো। গণআদালত থেকে গণজাগরণ করেছি, তাঁর ছায়া নিয়ে। এমন হতে সাহস লাগে। তিনিই আমাদের শেষ যোদ্ধা। আমাদের সমাবেশের ভাষা হয়ে ছিলেন তিনি। আমি আজ ভাষাহীন, একা এবং অসহায়।’
অভিনেত্রী-নাট্যকার বিপাশা হায়াত।নাট্যজন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না এমন বিশাল একজন ব্যক্তিত্ব আমাদের ছেড়ে এত দ্রুত চলে যাবেন। আমি লন্ডনে গিয়েও তার সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি। তিনি প্রতিনিয়ত তার সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত ছিলেন, আলো ছড়িয়েছেন। আজ আমাদের আলো চলে গেল। তিনি বিচিত্র বিষয় নিয়ে লিখে গেছেন। তারমতো উঁচুমানের লেখা অন্য কারও দ্বারা সম্ভব ছিল না।’
পরিচালক ও সংগঠক এস এ হক অলিক। নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের বলেন, ‘সৈয়দ হক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ। তার রচিত সাহিত্যকর্ম সত্যিকার অর্থে মানুষকে ভাবায়। বিশেষ করে মঞ্চ নাটকে তিনি বিশেষ পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন। তার মৃত্যুতে আমাদের বাংলা সাহিত্য, নাটক কিংবা সিনেমা শিল্প এক যোদ্ধাকে হারালো। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
অভিনেত্রী সুমনা সোমা।নাট্যজন তারিক আনাম খান বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলা শিল্প-সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর একজনই এসেছেন তিনি সৈয়দ হক। যিনি কবিগুরুর মতোই সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় হাত রেখেছেন সফলতার সঙ্গে। ফলে তাঁর এই চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুব বেদনার।’
অভিনেতা-নির্মাতা তারেক মাহমুদ।ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/এমএম/