জেমসের প্রতি নোবেলের আবেগঘন বার্তা

‘জেমস ভাই, আমার তো মায়ের পেটের বড়ভাই নাই’

ওই জেমস! ঈদের গান কই? নাকি ভয়েস গেছেগা—চাঁদরাতে (১৩ মে) ফেসবুক দেয়ালে এভাবেই বিস্ফোরক হলেন নোবেল। একটি নয়, সেদিন ৯ ঘণ্টায় নোবেল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে মোট ১৭টি পোস্ট দিয়েছেন। যার মধ্যে ১৪টিই হচ্ছে সরাসরি নগরবাউল জেমসকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য!

নোবেলের এমন আচরণে বিক্ষুব্ধ আর বিব্রত হলো পুরো মিডিয়া। তাতে লাভ হয়নি। জেমসকে ছাড়িয়ে সংগীতের অন্য অনেকের বিরুদ্ধেও একই অগ্নিরূপ ছিল নোবেলের। শেষে সাংবাদিককেও দিলেন প্রাণনাশের হুমকি!

এরমধ্যে ১৭ মে তার বিতর্কিত পোস্টগুলো মুছে দিলেন। তারও আগে বললেন পেজ হ্যাক হয়েছে! তবে এবার সব উগ্রতা আর মিথ্যাচার ছাপিয়ে নোবেল নত হলেন, মঙ্গলবার (১৮ মে) সন্ধ্যায়। প্রথম পোস্টে ক্ষমা চাইলেন সাংবাদিকদের কাছে। বললেন, ‘এমন ভুল আর হবে না।’

খানিক বাদেই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিলেন জেমসকে উদ্দেশ করে আবেগঘন পোস্ট। চাইলেন মাফ। বললেন, ‘জেমস্ ভাই। আমার তো মায়ের পেটের বড়ভাই নাই। যদি থাকতো, আমি তাঁকে আপনার মতো করেই ভালোবাসতাম, শ্রদ্ধা করতাম। জেনে না জেনে, বুঝে না বুঝে, রাগ অভিমানে, অনেক অন্যায় করে ফেলেছি। গুরু!! যে ভুল আমি করেছি, সে ভুলের ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য আমি নই। তবুও, যদি নিজের ছোট ভাই এবং আপনার সবচেয়ে বড় ভক্ত মনে করে আমাকে একটু ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতেন, আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম।’

সর্বশেষ ১৬ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সময় টিভি অনলাইনের সাংবাদিক আল কাছিরকে মুঠোফোনে তুলে নেওয়ার ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন নোবেল। নোবেলের এমন আগ্রাসী আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন সময় টিভি কর্তৃপক্ষ। এর নম্বর ৭০৩।

প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (প্রশাসন ও পরিচালন) সৈয়দ আসাদুজ্জামান জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘‘১৬ মে দিবাগত রাতে নোবেল সময় টিভি অনলাইনের প্রতিবেদক আল কাছিরকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাকে দেখে নেওয়া, জেলে প্রেরণ ও অপহরণের হুমকি দেন। পাশাপাশি নিজেকে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থের ‘শালা’ পরিচয় দিয়ে এগুলো করার কথা বলেন।’’

ধারণা করা হচ্ছে, এই জিডি’র সূত্র ধরেই একদিনের মাথায় নোবেল নতজানু হয়ে পরপর দুটি পোস্ট দিলেন।

এর আগে মাঈনুল আহসান নোবেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে পোস্ট দিয়েছিলেন। দেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, লিজেন্ড শিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসও দিয়েছেন নোবেল। তার এই হেনস্তার শিকার হয়েছেন নগরবাউল জেমস, তাপস, ইথুন বাবু, আহম্মেদ হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন।

এদিকে, নোবেলের এমন আচরণে দু-একজন ছাড়া বেশিরভাগ শিল্পীই নীরব ভূমিকা পালন করছেন। বিষয়টি নিয়েও চলছে সমালোচনা। বারবার একইভাবে জ্যেষ্ঠদের অপমান করলেও মুখ খুলতে দেখা যায়নি বেশিরভাগ শিল্পীকে।