কিছু দিন ধরে শরীরে খারাপ বোধ করছিলেন পরিচালক, অভিনেতা, নাট্যকার কচি খন্দকার। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, হার্টে একাধিক ব্লক সৃষ্টি হয়েছে, চিকিৎসা করাতে হবে।
এরপর যেতে হয় চিকিৎসকের কাঁচির তলে। অপারেশনের পর দীর্ঘদিন ধরেই বিছানায় পড়ে ছিলেন তিনি। কচির অভিযোগ, সহযোগিতা তো দূর, কোনও সংগঠন থেকে খোঁজও নেয়নি কেউ। অথচ তিনি সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘ এবং নাট্যকার সংঘসহ নানা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে।
তাই অনেকটা অভিমানে সংগঠনগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন এই শিল্পী। যদিও তার ভাষায়, ‘প্রয়োজন’ নেই বলে সরে যাচ্ছেন তিনি।
আজ (১২ ডিসেম্বর) ফেসবুকে তথ্যটি প্রথম জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গেও।
তার ভাষ্য, ‘অসুস্থতার কারণে কোনও কাজ করতে পারছি না। আমার দরকারও নেই। ব্যক্তিগতভাবেই আমি একটা সমস্যায় ছিলাম, কোনও সহযোগিতা পাইনি। সহযোগিতা চাইনিও। কিন্তু অন্যরা তো খোঁজ নিতে পারতো। নেয়নি।’
তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক ঘোষণাটা দিলেন। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে সব সংঘকে নিজের অবস্থান জানাবেন কচি।
নিজের সংঘগুলো ত্যাগ করার কারণ স্পষ্ট করতে তিনি বলেন, ‘আমার কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা অনুযোগ নেই। প্রয়োজন মনে করছি না। এগুলো থাকলে উল্টো পেইন হয়। আপনার যদি কোনও গাইড থাকে, তখন মনে হবে উনি হয়তো কিছু করবেন। আর যদি নাই থাকে, তাহলে ফ্রি হয়ে গেলাম। নিজের মতো করে সবকিছু এগোলাম।’
নিজের অসুস্থতা নিয়ে বলেন, ‘গত মাসের শেষের দিকে অপারেশন হয়েছে। এখন বেশ সুস্থ। একটু একটু করে হাঁটার চেষ্টা করি। পুরো সুস্থ হতে তিন মাস লাগবে। সুস্থ হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার কাজে ফিরবো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ততার কারণে পরিচালনায় ফিরতে পারিনি। এখন আমার একমাত্র ইচ্ছা, তিনটা সিনেমা শেষ করা।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিয়মিত কাজ করে গেছেন কচি খন্দকার। চেয়েছিলেন অভিনয় ও পরিচালনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। সেখানে অসুস্থতার কারণে এতে ছেদ পড়লো। আপাতত কিছু করতে পারছেন না।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুস্থ হয়ে উঠে ‘মাই ডিয়ার ফুটবল’ সিনেমার কাজ শুরু করতে চান তিনি।