অস্কার মঞ্চে লাইভ সম্প্রচার চলাকালে আমেরিকান কমেডিয়ান ক্রিস রককে চড় মেরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলে দিয়েছেন অভিনেতা উইল স্মিথ। তবে এ ঘটনায় অস্কারজয়ী উইল স্মিথের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চান না রক। লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) এই তথ্য জানিয়েছে।
এলএপিডি’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে এক তারকার গালে অন্যজনের চড় দেওয়ার ঘটনাটি সম্পর্কে তারা জেনেছে। কিন্তু ক্রিস রক থানায় অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি যদি পুলিশকে অভিযোগ দেন, তবেই এলএপিডি একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে। অন্যথায় তারা এ ঘটনা নিয়ে আর মাথা ঘামাবে না।
গভর্নরস বলে পিপল ম্যাগাজিনকে টিফানি হ্যাডিশ বলেন, ‘যখন কোনও নারীকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা হয়, তখন স্বামীই এরকম করে এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে স্বামী জানান দেন, স্ত্রীকে আগলে রাখবেন তিনি। এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার। বিশ্ববাসী হয়তো উইল স্মিথের এমন ব্যবহার পছন্দ নাও করতে পারে, কিন্তু আমার দেখা সুন্দর একটি মুহূর্ত এটি। কারণ এ ঘটনায় আমার মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে, এখনও এমন কিছু পুরুষ আছে যারা নারীদের, তাদের স্ত্রীকে ভালোবাসে এবং যত্ন করে।’
বাংলাদেশ সময় ২৮ মার্চ সকাল, হলিউডের ডলবি থিয়েটারে সাজানো অস্কার মঞ্চে সেরা প্রামাণ্যচিত্র শাখার পুরস্কার বিতরণ করতে এসেছিলেন ক্রিস রক। বিজয়ী ছবির নাম ঘোষণার আগে উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা পিঙ্কেট স্মিথের চুল পড়া নিয়ে ঠাট্টার ছলে ৫৭ বছর বয়সী এই আমেরিকান তারকা বলেন, ‘‘জাডা আই লাভ ইউ। ‘জি. আই. জেন টু’ ছবি দেখতে মুখিয়ে আছি।’’
১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রিডলি স্কটের ‘জি. আই. জেন’ ছবিতে নৌবাহিনীর মতো বিশেষ অপারেশন প্রশিক্ষণ নেওয়া একটি চরিত্রে অভিনয় করেন ডেমি মুর। ছবিটির জন্য মাথার চুল ছেঁটে ফেলেছিলেন তিনি। জাডা পিঙ্কেট স্মিথের চুল পড়া সমস্যার কারণে তার অবয়ব অনেকটা ‘জি. আই. জেন’ ছবির ডেমি মুরের মতো হয়ে গেছে বলা যায়। ক্রিস রক সেজন্যই এই রসিকতা করেছেন। তখন উইল স্মিথও হেসেছেন। কিন্তু জাডা পিঙ্কেট স্মিথের নেতিবাচক অভিব্যক্তি দেখার পর উইল স্মিথ আসন থেকে উঠে মঞ্চে গিয়ে ক্রিস রককে আচমকা চড় মেরে বসেন। এরপর আসনে ফিরে ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা উঁচু গলায় বলেন, ‘তোমার বাজে মুখে আমার স্ত্রীর নাম নেবে না।’
ততক্ষণে চড়ের ঘটনা ডলবি থিয়েটারে উপস্থিত এবং টিভি সেটের সামনে বসা কোটি কোটি দর্শককে হতভম্ব করে দিয়েছে। সেই বিমর্ষ প্রভাব অনুষ্ঠানের বাকি অংশজুড়ে ছায়া ফেলেছে। অস্কার আয়োজকদের কল্পনাতেও এমন কিছু ছিল না। তারা দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কত চেষ্টাই না করেছেন। কিন্তু অনুষ্ঠানটি আলোচিত হয়ে উঠলো কিনা নেতিবাচক কারণে! অস্কারের মূল আলোচনার বিষয় হওয়ার কথা যেখানে অ্যাপল টিভি প্লাসের ‘কোডা’র সেরা চলচ্চিত্র শাখায় ঐতিহাসিক জয়, উইল স্মিথ কিনা হুট করে সব মনোযোগ কেড়ে নিলেন!
পুরো ঘটনাটি ছিল আয়োজক ও অতিথিদের জন্য বিব্রতকর। অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ টুইটারে লিখেছে, ‘একাডেমি কোনও ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় না। আজ রাতে আমরা ৯৪তম অস্কার বিজয়ীদের উদযাপন করতে পেরে আনন্দিত, তারা বিশ্বজুড়ে সহকর্মী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছ থেকে স্বীকৃতি প্রাপ্য তাদের।’
চড় মারার কারণেই হয়তো ৯৪তম অস্কারে উইল স্মিথ বেশি আলোচিত হচ্ছেন। কিন্তু এটাও সত্যি যে, ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার অস্কার জিতলেন তিনি। এর আগে ২০০২ সালে ‘আলি’ এবং ২০০৭ সালে ‘দ্য পারস্যুট অব হ্যাপিনেস’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে।
ক্রিস রককে চড় মারার কিছুক্ষণ পর ‘কিং রিচার্ড’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখার পুরস্কার নিতে আবারও মঞ্চে গিয়ে আয়োজক এবং মনোনীত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন উইল স্মিথ। নিজের অনুভূতি জানিয়ে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। তার চোখ বেয়ে জল পড়তে দেখেছে সবাই।
অস্কারের ৯৪তম আসরে সেরা অভিনেতা শাখায় উইল স্মিথের জয় একরকম অবধারিত ছিল। ‘কিং রিচার্ড’ ছবির সুবাদে ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা এর আগে বাফটা, গোল্ডেন গ্লোবস, ক্রিটিকস চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ডস এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন। টেনিস তারকা ভেনাস ও সেরেনা উইলিয়ামসকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো তৈরি করতে তাদের বাবা রিচার্ড উইলিয়ামসের দৃঢ়সঙ্কল্প তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।
ডলবি থিয়েটারে বিতর্কিত ঘটনার পর পুরস্কার বিতরণ শেষে ভ্যানিটি ফেয়ারের পার্টিতে যোগ দেন উইল স্মিথ ও জাডা পিঙ্কেট স্মিথ দম্পতি। আলোকচিত্রী কাউকে নিরাশ করেননি উইল স্মিথ। অস্কার ট্রফি দেখিয়ে অনেকক্ষণ ছবি তুলেছেন।