শেষবার সংগীতের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কেকে বললেন, ‘মনে হচ্ছে এখানেই মরে যাই’! নজরুল মঞ্চে গানের ফাঁকে আওড়ানো সেই লাইনটির অল্প দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলো মৃত্যু- কে জানতো?
জীবন সত্যি বড় অনিশ্চিত। কেকে’র অকাল মৃত্যু ফের একবার সেই জিনিসটাই প্রমাণ করলো। কে জানতো মাত্র ৫৩ বছর বয়সী এই গায়ক মঙ্গলবার (৩১ মে) শেষবারের মতো মঞ্চে উঠছেন। দীর্ঘ ও সফল সংগীতজীবনে সেভাবে পুরস্কার কপালে জোটেনি, তবে এসব নিয়ে ক্ষেদ ছিল না তার। ‘ফ্যানদের ভালোবাসাই আমার পুরস্কার’- বিশ্বাসী ছিলেন কেকে।
মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চের উপচে পড়া ভিড়ে কেকে গাইছেন, ‘আঁখো মে তেরি আজাব সি আজাব সি আদায়ে হ্যায়…’, তার সঙ্গে গুনগুন করছে গোটা অডিটোরিয়াম। তখনও জানেন না সামনেই মৃত্যু অপেক্ষা করছে তার জন্য। মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাইতে গাইতেই হিন্দিতে বলে উঠলেন, ‘হায়… মর যাউ এহি পে’ (মনে হচ্ছে এখানেই মরে যাই)।
কেকে’র শেষদিনের অনুষ্ঠানের এই মুহূর্তটি এখন হু হু করে ভাইরাল সোশ্যাল হ্যান্ডেলে।
এদিন সন্ধ্যা ৬.৪৫ নাগাদ নজরুল মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন কেকে। মোট ২০টি গান গাইবেন বলে তালিকাও প্রস্তুত করেছিলেন। শেষ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন যে গানের তালিকা, সেটিও ভাইরাল সোশ্যালে।
‘তু আশিকি হ্যায়’ দিয়ে শুরু, এরপর ‘ক্যায়া মুঝে প্যায়ার হ্যায়’, ‘দিল ইবাদত’, ‘মেরে বিনা’, ‘লাবো কো লাবো সে’- একেরপর এক সুপারহিট গান গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করলেন কেকে। ফাঁকে মুছলেন ঘামও। এতটুকু বুঝতে দেননি ভেতরে তার চলছে গুমট অস্থিরতা কিংবা মৃত্যু পরোয়ানা।
তালিকার শেষ গান ছিল ‘পাল’, ভালোবাসার সেই মুহূর্তই যেন সঙ্গে থেকে গেলো।
হিন্দি, তামিল, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে আসীন বলিউড গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। ভক্তরা যাকে কেকে নামেই সম্বোধন করেন। মঙ্গলবার (৩১ মে) রাতে কনসার্ট শেষে সবাইকে শোকে ভাসিয়ে ৫৩ বছর বয়সে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কলকাতার নজরুল মঞ্চে গাইতে এসে অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।
চিকিৎসকরা জানালেন, কেকে’র মৃত্যুতে কোনও রহস্যময় কিছু নেই। তার মৃত্যুর কারণ, হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস