ছুটির দিন শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নীরব থাকলেও সরব হয়ে ওঠে বিকালে। রাত ৯টা পর্যন্ত বাউলগান, নৃত্য ও মঞ্চ নাটকে মুখর থাকে রাজধানীর অন্যতম এই সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।
আয়োজকরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেটি এখন পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তারা। এ জন্য সংস্কৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে মানসম্পন্ন পরিবেশনার দিকে মনোনিবেশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এতে বেশ সাড়া পাচ্ছেন তারা। গানের শ্রোতা, নাটকের দর্শক আর নৃত্য উপভোগকারীদের সংখ্যা বাড়ছে।
সংস্কৃতিপ্রেমীরাও জানান, তারা এখন আগের চেয়ে ভালো পরিবেশনা দেখছেন। এ জন্য বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে আসছেন গান শুনতে, নাটক দেখতে। এটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এদিন বিকাল ৪টায় ‘মিতা যুবরাজ’ উৎসব দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয় শিল্পকলা একাডেমিতে। যুবরাজ সংঘের এ আয়োজন ছিল ‘বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান অসাম্প্রদায়িক ও মিতা-যুবরাজ’ শিরোনামে। দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্বে শিল্পকলা একাডেমির গেট-সংলগ্ন নিশাত চত্বরে বাউলগানের আসর বসে। এতে বরেণ্য শিল্পীরা লালনগীতিসহ বিভিন্ন ধরনের বাউলগান পরিবেশন করেন। সন্ধ্যা ৬টায় আহ্বান নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই পর্বের।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে নানা আয়োজন। জাতীয় সংগীতের পর প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে আলোচনা সভায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মফিদুল হক, সারা যাকের ও রতন সিদ্দিকী।
এ সময় একক নৃত্যের পর দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। মিতা হক পরিচালিত গানের দল ‘সুরতীর্থ’ সম্মিত গান পরিবেশন করে।
এ পর্বে স্মৃতিচারণামূলক বক্তব্য দেন বুলবুল ইসলাম ও লাইসা আহমেদ লিসা। মাসুদ রেজার লেখা বিশেষ নাটক ‘আবছায়ায় যুবরাজ’ মঞ্চায়ন করা হয়। নৃত্য পরিবেশন করেন দুটি দল। এ গান ও কবিতা কণ্ঠে তোলেন শ্রীকান্ত আচার্য্য, আসাদুজ্জামান নূর, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও সুবর্ণা মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান ও আইএফআইসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ এ সারওয়ার। এ সময় তারা মিতা ও যুবরাজের সৃষ্টিশীল কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনি চলচ্চিত্র ‘ধূসরযাত্রা’ পাঁচালী ফিল্মসের আয়োজন ছিল। জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকাল সাড়ে ৬টায় ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী শুরু হয়। সিনেমাটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রয়েছেন মাসউদ সুমন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২২। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এই আয়োজন জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিরোনামে সৃজনশীল নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এই উৎসব আরও দুই দিন (১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর) বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।
জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন শুরু হয় ‘গ্যাঁড়াকল’ (উদ্বোধনী) নাটক। গ্রন্থিক নাট্যগোষ্ঠীর এই পরিবেশ দেখতে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই দৃশ্য দেখে আয়োজকরাও তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে সোয়া ৭টায় শুরু হয় ‘ডিয়ার লায়ার’। নাট্যম রেপার্টরির এই নাটক পাঠ-অভিনয় শুনতে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। জর্জ বার্নার্ড শ ও বিখ্যাত অভিনেত্রী প্যাট্রিক ক্যাম্পবেলের প্রেমপত্রের অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম।