টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৬তম আসরের সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতলো চীনের প্রয়াত পরিচালক পেমা সিডেনের ‘স্নো লেপার্ড’। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এর বিষয়বস্তু তুষার চিতাবাঘ। এটি পেয়েছে টোকিও গ্রাঁ প্রিঁ। পুরস্কারটির মূল্য ৩০ লাখ জাপানি ইয়েন (২২ লাখ টাকা)।
চীনের তিব্বতীয় মালভূমির থ্রি রিভার্স ন্যাচার রিজার্ভে ২০২২ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ‘স্নো লেপার্ড’ চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন হয়েছে। চীনা তিব্বতি-ভাষায় ছবিটি পরিচালনা করেন পেমা সিডেন। এটাই তার জীবনের শেষ চলচ্চিত্র। গত ৮ মে ৫৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি। পরিচালকের মৃত্যুর চার মাস পর গত ৫ সেপ্টেম্বর ৮০তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতার বাইরে এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। একই মাসে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেন্টারপিস বিভাগে এটি দেখানো হয়েছে।
গত বছর ৭৫তম কান উৎসবে ‘হলি স্পাইডার’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন জার আমির ইব্রাহিমি। ২০০৮ সালে নিজের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের ভয়ে ইরান থেকে পালিয়ে যান তিনি। ৪২ বছর বয়সী এই তারকা এখন ফ্রান্সেরও নাগরিক।
প্রতিযোগিতা বিভাগে বিচারকদের প্রধান ছিলেন জার্মান পরিচালক-আলোকচিত্রী ভিম ভেন্ডার্স। তার পরিচালিত ‘পারফেক্ট ডেজ’ ছিল এবারের টোকিও উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র। ভিম ভেন্ডার্সের নেতৃত্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্প্যানিশ পরিচালক আলবের্ত চেরা, চীনা অভিনেত্রী চাও তাও, জাপানিজ প্রযোজক কুনিজানে মিজুয়ে এবং ভিয়েতনামের প্রযোজক চান তি বিক নো।
এক বিবৃতিতে ভিম ভেন্ডার্স বলেন, ‘আমরা চার বিচারক একে অপরকে সম্মান দিয়েছি। একসঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা করে প্রতিযোগিতা বিভাগের ছয়টি পুরস্কারের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আমরা সব বিজয়ীর ব্যাপারে খুশি।’
অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও টেক ওয়ান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জাপানে বসবাসরত দুই পরিচালক, যাদের কোনও চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। এগুলো হলো ইয়াং লিপিং পরিচালিত ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ এবং ইয়াসুমুরা এমির ‘বি প্রিপেয়ার্ড’। পুরস্কারটির মূল্য ১০ লাখ জাপানি ইয়েন (প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা)। এছাড়া অ্যামাজন স্টুডিওস থেকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগিতা মিলবে।
বিশ্ব চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মর্যাদাসম্পন্ন আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন চীনের চলচ্চিত্র পরিচালক গু শিয়াও-গাং এবং ইন্দোনেশিয়ার মওলি সুরিইয়া। গত ৩১ অক্টোবর তাদের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চীনের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ঝাং ইমু।
জাপানের কিংবদন্তি পরিচালক ইয়াসুজিরো ওজুর ১২০তম জন্মবার্ষিকী ও ৬০তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে সাজানো হয়েছে ৩৬তম টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল পোস্টার। এতে তার পরিচালিত ‘টোকিও স্টোরি’র (১৯৫৩) প্রতি সম্মান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান আন্দো হিরোয়াসু জানান, গত ২৩ অক্টোবর শুরু হওয়া ১০ দিনের এই আয়োজনে দেখানো হয়েছে ২১৯টি চলচ্চিত্র। এগুলো দেখেছেন ৭৪ হাজার ৮৪১ জন দর্শক। এছাড়া অন্যান্য ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন ৭৩ হাজার ৮১ জন।
৩৬তম টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বিজয়ী তালিকা
টোকিও গ্রাঁ প্রিঁ (গভর্নর অব টোকিও অ্যাওয়ার্ড): স্নো লেপার্ড (পেমা সিডেন, চীন)
বিশেষ জুরি প্রাইজ: তাতামি (জার আমির ও গাই নাটিভ, ইরান/ইসরায়েল)
সেরা পরিচালক: কিশি ইয়োশিয়ুকি [(অ্যাব)নরমাল ডিজায়ার, জাপান]
সেরা অভিনেতা: ইয়াসনা মির্তামোসবি (রোকসানা, ইরান)
সেরা অভিনেত্রী: জার আমির (তাতামি, ইরান)
সেরা শিল্প নির্দেশক: অ্যা লং শট (পেং গাও, চীন)
অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড: (অ্যাব)নরমাল ডিজায়ার (কিশি ইয়োশিয়ুকি, জাপান)
এশিয়ান ফিউচার সেরা চলচ্চিত্র অ্যাওয়ার্ড: মারিয়া (মাহদি আসগরি আজগাদি, ইরান)
অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও টেক ওয়ান অ্যাওয়ার্ড: গন উইথ দ্য উইন্ড (ইয়াং লিপিং, জাপান)
বিশেষ জুরি পুরস্কার (অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও টেক ওয়ান অ্যাওয়ার্ড): বি প্রিপেয়ার্ড (ইয়াসুমুরা এমি, জাপান)
আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড: গু শিয়াও-গাং (চীন), মওলি সুরিইয়া (ইন্দোনেশিয়া)
আজীবন সম্মাননা: ঝাং ইমু