ভারতের খ্যাতিমান তবলাবাদক ওস্তাদ জাকির হোসেন এক রাতেই তিনটি গ্র্যামি জিতলেন! এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস রচনা করলেন তিনি। গ্র্যামির একই আসরে ভারতের কোনও সংগীতশিল্পীর তিনটি জয়ের উদাহরণ এটাই প্রথম। তার পাশাপাশি এবার বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে সম্মানজনক এই স্বীকৃতি পেলেন ভারতের আরও চার সংগীতশিল্পী।
ওস্তাদ জাকির হোসেন, ভারতীয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক শঙ্কর মহাদেবা, বেহালাবাদক গনেশ রাজাগোপালান ও পারকাশনিস্ট ভি. সেলভাগনেশের ফিউশন ব্যান্ড শক্তির ‘দিস মোমেন্ট’ ৬৬তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম পুরস্কার পেয়েছে। ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ব্রিটিশ গিটারবাদক জন ম্যাকলকলিন। তিনিও এই অ্যালবামে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনায় ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল) বসেছিল গ্র্যামির জাঁকজমকপূর্ণ আসর। মঞ্চে উঠে সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম পুরস্কার গ্রহণ করেন শঙ্কর মহাদেবা ও গনেশ রাজাগোপালান। আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্টে সেই স্থিরচিত্র শেয়ার দেওয়া হয়েছে।
শঙ্কর মহাদেবা বলেন, ‘ধন্যবাদ সবাইকে। সৃষ্টিকর্তা, পরিবার, বন্ধু ও ভারতকে ধন্যবাদ। ভারত, আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত। আমার স্ত্রীকে এই পুরস্কার উৎসর্গ করতে চাই, যাকে আমার সংগীতের প্রতিটি ধ্বনি উৎসর্গ করি।’
‘দিস মোমেন্ট’ হলো শক্তির তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম। ১৯৭৭ সালে ‘ন্যাচারাল এলিমেন্টস’ প্রকাশের ৪৬ বছর পর এটাই এই ফিউশন ব্যান্ডের নতুন অ্যালবাম। এতে রয়েছে আটটি গান। এগুলো সুর করেছেন ও গেয়েছেন শঙ্কর মহাদেবা। সংগীতায়োজন করেছেন ওস্তাদ জাকির হোসেন, জন ম্যাকলকলিন, গনেশ রাজাগোপালান ও ভি. সেলভাগনেশ।
সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম বিভাগে আরও মনোনীত হয়েছে ‘এপিফানিয়াস’ (সুসানা বাকা), ‘হিস্ট্রি’ (বোকান্তে), ‘আই টোল্ড দেম...’ (বার্না বয়) এবং ‘টাইমলেস’ (ডেভিডো)।
ওস্তাদ জাকির হোসেনকে এবারের গ্র্যামি দু’হাত ভরে দিয়েছে। সেরা গ্লোবাল মিউজিক পারফরম্যান্স বিভাগে পুরস্কৃত ‘পশতু’তে রয়েছে তার তবলার জাদু। এর ব্যাপ্তি ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ড। এতে জাকির হোসেনের পাশাপাশি শ্রোতাদের সুরের সাম্পানে ভাসিয়েছেন আমেরিকান ব্যাঞ্জোবাদক বেলা ফ্লেক, বেজবাদক এডগার মেয়ার ও ভারতীয় বংশীবাদক রাকেশ চৌরাসিয়া।
সেরা গ্লোবাল মিউজিক পারফরম্যান্স বিভাগে আরও মনোনয়ন পেয়েছে ‘শ্যাডো ফোর্সেস’ (আরুজ আফতাব, বিজয় আইয়ার ও শেহহাদ ইসমাইলি), ‘অ্যালোন’ (বার্না বয়), ‘ফিল’ (ডেভিডো), ‘মিলাগ্রো ই দেসাস্ত্রে’ (সিলভানা এস্ত্রাদা), ‘অ্যাবানড্যান্স ইন মিলেটস’ (ফালু ও গৌরব শাহ ফিচারিং নরেন্দ্র মোদি) এবং ‘টোডো কালারেস’ (ইব্রাহিম মালুফ ফিচারিং সিমাফাঙ্ক ও ট্যাঙ্ক অ্যান্ড দ্য ব্যাঙ্গাস)।
‘পশতু’ হলো ‘অ্যাজ উই স্পিক’ অ্যালবামের সংগীত। এটি ৬৬তম গ্র্যামির সেরা কন্টেমপোরারি ইনস্ট্রুমেন্টাল অ্যালবাম বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। ফলে জাকির হোসেনের পাশাপাশি বেলা ফ্লেক, এডগার মেয়ার ও রাকেশ চৌরাসিয়ার নাম বিজয়ী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এই বিভাগেও। ফলে গুণী বংশীবাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার ভাগ্নে রাকেশ চৌরাসিয়া দুটি সোনালি গ্রামোফোন পেয়েছেন।
সেরা কন্টেমপোরারি ইনস্ট্রুমেন্টাল অ্যালবাম বিভাগে আরও মনোনয়ন পেয়েছে ‘অন বিকামিং’ (হাউস অব ওয়াটার্স), ‘জ্যাজ হ্যান্ডস’ (বব জেমস), ‘দ্য লেয়ারস’ (জুলিয়ান লেইজ) এবং ‘অল ওয়ান’ (বেন ওয়েন্ডেল)।
সেরা ইনস্ট্রুমেন্টাল কম্পোজিশন বিভাগেও মনোনয়ন পেয়েছেন ওস্তাদ জাকির হোসেন। তবে এই পুরস্কার জিতেছেন আমেরিকান সুরকার জন উইলিয়ামস।
১৯৭১ সালে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনে সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও সরোদবাদক ওস্তাদ আলী আকবর খানের সঙ্গে তবলা বাজিয়েছেন জাকির হোসেনের বাবা ওস্তাদ আল্লারাখা।
৬৬তম গ্র্যামিতে যুক্ত হয়েছে নতুন তিনটি বিভাগ। এগুলো হলো– সেরা আফ্রিকান মিউজিক পারফরম্যান্স, সেরা অল্টারনেটিভ জ্যাজ অ্যালবাম এবং সেরা পপ ড্যান্স রেকর্ডিং। সামনের সারির চারটি বিভাগ বর্ষসেরা অ্যালবাম, বর্ষসেরা রেকর্ড, বর্ষসেরা গান এবং সেরা নতুন সংগীতশিল্পী হিসেবে মনোনীতদের সংখ্যা ১০ থেকে কমিয়ে ৮ করা হয়েছে।
এবারের আসরে ২০২২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত গান, সুর ও সংগীত এবং শিল্পীদের মধ্য থেকে ৯৪টি বিভাগে সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। সিবিএস চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্যারামাউন্ট প্লাসে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হয়।