চার দশক ধরে প্রতি বছরই ঘটা করে হয়ে আসছে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব। রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে এত বড় উৎসব আর হয় না এই বাংলায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীর বুকে বসতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী উৎসব। তবে অতীতের সব আয়োজন ছাপিয়ে এবারের ৩৫তম আসর একটু বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কারণ এই উৎসবের প্রায় পুরোটা জুড়ে থাকছেন দুজন কিংবদন্তি। একজন কলিম শরাফী, অন্যজন সাদি মহম্মদ। এবারের উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হবে কলিম শরাফীর শততম জন্মদিন (৮ মে)। অন্যদিকে পুরো উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে অকাল প্রস্থানে যাওয়া সাদি মহম্মদ স্মরণে। ফলে আগাম অনুমান করা যায়, এবারের উৎসবজুড়ে থাকছে নাচ-গান-আবৃত্তিতে মোড়ানো জন্ম আর মৃত্যুর সুরেলা মেলবন্ধনের প্রতিধ্বনি।
৯ থেকে ১১ মে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে হবে এই উৎসব।
এবারের উৎসব প্রসঙ্গে মহড়ার ফাঁকে আলাপ হয় সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি আমিনা আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলেই এবারের উৎসবটি আমাদের কাছে যেমন আনন্দের তেমনই বেদনার বার্তা বহন করে। আপনারা জানেন, কিংবদন্তি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কলিম শরাফীর শততম জন্মবার্ষিকী ৮ মে। সেটি আমরা ৯ মে উৎসবের উদ্বোধনী দিনে পালন করবো ঘটা করে। আপনারা আরও জানেন, আরেক সংগঠন রবিরাগ-এর প্রতিষ্ঠাতা আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সাদি মহম্মদ চলে গেলেন এই তো সেদিন। তাই পুরো উৎসবটি এবার তাঁর প্রতি উৎসর্গ করছি আমরা। আমাদের প্রস্তুতি চলছে দারুণ উৎসাহের মাধ্যমে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’
উদ্বোধনী আয়োজন সাজানো হয়েছে জাতীয় সংগীত, দুটি দলীয় সংগীত ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে। এরপর হবে আলোচনা অনুষ্ঠান, আবৃত্তি ও একক সংগীত। থাকছে শিবলী মহম্মদ ও শামিম আরা নীপার পরিচালনায় নৃত্যায়োজন।
১০ মে উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে প্রথম পর্ব। শেষ হবে সাড়ে ১২টায়। এই পর্বে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে সংগীত ভবন, বাফা উত্তরায়ণ, বৈতালিক, বিশ্ববীণা প্রভৃতি।
এরপর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে বিকাল ৫টায়। থাকবে দলীয় ও একক পরিবেশনা।
সংস্থার নির্বাহী সভাপতি আমিনা আহমেদ এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতি বছর উৎসবে আপনাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের উৎসাহ ও প্রেরণা জোগায়। আশা করি এবারের আয়োজনও আপনাদের ভালো লাগবে। রবীন্দ্রনাথকে ভালোবেসেই আমরা এই চর্চা করছি। পাশে থেকে আপনারাও সবসময় আমাদের উৎসাহ দেবেন।’