দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আলো জ্বলেনি জাতীয় নাট্যশালার, বন্ধ ছিল দরজা। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) থেকে ফের আলো জ্বলতে যাচ্ছে। শিল্পী-কুশলী আর দর্শক সমাগমে আবারও প্রাণ ফিরবে দেশের প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। এমন আনন্দ খবরে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রাষ্ট্রের এক ইতিবাচক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে অনিচ্ছাকৃত বিরতির পর নতুন করে নাট্য-শিল্পচর্চার দ্বার উন্মুক্ত করছে। এই শুভক্ষণে অংশীজনদের সবাইকে আমি অভিবাদন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করতে চাই।’
পাশাপাশি তিনি সবাইকে আহ্বান জানান এই বলে, ‘এমন শিল্পচর্চা করুন, যাতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হাজার মালভূমির বৈচিত্র্যে ভরপুর এক সৃষ্টিশীল সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক জনপদরূপে আমরা কল্পনা করতে পারি।’
মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক বিপ্লবের বিষয়টি সামনে এনে এই নাট্যজন আরও বলেন, ‘১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে যে বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আত্মার স্বর আমরা শুনতে পাই, তার ভিত্তিতে, একক কোনও দলীয় বয়ানের বিপরীতে, ভয়হীন প্রশ্ন জাগানিয়া মুক্ত চিন্তা ও কল্পনার সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করুন। বহু বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা চর্চার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গড়ে তুলুন, যারা সকল প্রকার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সকল সময়ে শিল্পের ভাষায় আপামর জনগণের হৃৎস্পন্দনকে তুলে ধরবে।’
এদিকে শিল্পকলার জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ১১ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশ থিয়েটারের নাটক ‘সী মোরগ’। মূলত এই মঞ্চায়নের মধ্য দিয়েই দ্বার খুলছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই কিছু নির্দেশনা অনুসরণ সাপেক্ষে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে মঞ্চায়ন।
বাংলাদেশ থিয়েটারের ৬ষ্ঠ প্রযোজনা ‘সী মোরগ’ দর্শক নন্দিত এক ব্যতিক্রমী হাসির নাটক। এটি রচনা করেছেন আসাদুল্লাহ ফারাজী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন হুমায়ূন কবীর। শনিবার ১২ অক্টোবর একই সময়ে মঞ্চস্থ হবে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’।
এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে, জাতীয় নাট্যশালার মূল হল, নাটক মঞ্চায়নের জন্য বিবেচ্য নাট্যদলকে ১ শিফটে একটি প্রদর্শনী করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। মিলনায়তন বরাদ্দ চূড়ান্ত করার সময় বরাদ্দপ্রাপ্ত দলকে অবশ্যই তাদের উপস্থিত সদস্যবৃন্দের তালিকা সংগঠনের প্যাডে লিখিতভাবে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের দফতর কক্ষে জমা প্রদান করতে হবে। উক্ত তালিকা মিলনায়তন ব্যবহারের নির্ধারিত দিনে সকল গেটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরবরাহ করা হবে। জাতীয় নাট্যশালার মূল গেটে দর্শক প্রবেশের জন্য নাটক প্রদর্শনীর ২ ঘণ্টা পূর্বে খুলে দেওয়া হবে। হল বরাদ্দ ব্যতীত জাতীয় নাট্যশালার মূল গেট খোলা হবে না।
জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হল ব্যবহারের জন্য নাট্যসংগঠনগুলো অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।