স্পেনের বিখ্যাত সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়ে কথা বললেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী। গাজায় যা ঘটছে, সেটিকে তিনি সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
নতুন ছবি ‘ডাই মাই লাভ’ প্রদর্শন ও মর্যাদাপূর্ণ ডোনোস্তিয়া অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে ২৬ সেপ্টেম্বর ফেস্টিভ্যালে যোগ দেন লরেন্স। উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে তাকে বারবার গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আয়োজকরা প্রশ্ন বন্ধ করার চেষ্টা করলেও লরেন্স শেষদিকে খোলামেলা মত দেন এই বিষয়ে।
আমেরিকান রাজনীতি প্রসঙ্গে লরেন্স বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বিভক্তি তাকে ব্যথিত করে। ‘এখনকার যে অবমাননা আর বিশৃঙ্খলা চলছে, সেটা তরুণ ভোটারদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তাদের কাছে রাজনীতিতে সততা বলে কিছু আর থাকবে না। কারণ রাজনীতিবিদরা মিথ্যা বলছে। ফলে তাদের প্রতি ভোটারদের আর সহমর্মিতা থাকবে না।’
তবে লরেন্স মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব শিল্পীদের নয়। ‘আমি চাই এমন কিছু বলতে বা করতে, যাতে এই জটিল ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি বদলে যায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয় হলো—আমাদের কথাগুলো রাজনৈতিক আগুনে ঘি ঢালার মতো ব্যবহার করা হবে। অথচ সমাধানের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লরেন্স স্বীকার করেন, আমেরিকার মতপ্রকাশ ও শিল্প-স্বাধীনতা হুমকির মুখে, ফলে চলচ্চিত্র উৎসবগুলো এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, ‘এখানে আমরা একে অপরের গল্প শুনতে পারি, শিখতে পারি এবং বুঝতে পারি যে আমরা সবাই সংযুক্ত, আমরা সবাই গুরুত্বপূর্ণ এবং সহমর্মিতা ও স্বাধীনতার যোগ্য।’
‘ডাই মাই লাভ’ এদিন (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সান সেবাস্তিয়ানে প্রিমিয়ার হয়েছে। ছবিতে লরেন্স অভিনয় করেছেন গ্রেস চরিত্রে, সদ্য মা হওয়া এক নারী। যার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে স্বামী জ্যাকসন-এর (রবার্ট প্যাটিনসন) কারণে। ছবিটি চলতি বছরের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছিল, যেখানে ছয় মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পায় এবং লরেন্সের সাহসী অভিনয় প্রশংসিত হয়।
সূত্র: ভ্যারাইটি