অভিনেতা জাহের আলভীর ‘আত্মগোপন’ কিংবা ‘মবভীতি’র খবর অনেকটাই চাপা পড়ে গেলো শুটিং স্পটে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের ‘মারধর’ কাণ্ডে!
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে কেঁদেকেটে ফেসবুক লাইভে এসে তানজিন তিশার প্রতি গুরুতর ‘মারধর’র অভিযোগ তোলেন জুনিয়র অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। রাতে সেই ‘মারধর’কে ‘চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে’ করেছেন বলে দাবি করেন তানজিন তিশা।
মানে সোহানা সাবা বোঝাতে চেয়েছেন, ২ মার্চ শুটিং স্পটে সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে ‘চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে’ তানজিন তিশা যা করেছেন, সেটি অল্পতেই বেঁচে যাওয়ার মতো ঘটনা! যদি সেই স্ক্রিপ্টে থাকতো- তিশা সামিয়া অথৈকে ছুরি দিয়ে খুন করবেন! সাবার শঙ্কা- তাহলে তো সেদিনই খুন-খারাবি হয়ে যেত!
শেষে সরাসরি তানজিন তিশার দিকেই যেন স্পষ্ট আঙুল তুলেছেন ‘আয়না’ অভিনেত্রী। বললেন, ‘এমন ম্যাথডিকাল অ্যাক্টর পৃথিবীতে আর আসেনি ভাই!’
অর্থাৎ, যে অভিনেত্রী চিত্রনাট্য বা চরিত্রের প্রয়োজনে সহশিল্পীকে এভাবে হেনস্তা করতে পারে, সেটি বিস্ময়কর সাবার কাছে!
সংঘের বক্তব্য অনুসারে, তাদের অভিযোগের বার্তাটি সামিয়া অথৈয়ের প্রতি। কারণ শুটিং স্পট থেকে বেরিয়েই তিনি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করেন।
জানা কথা, তবু বলা- শুটিং সেটে তরুণ সহশিল্পী সামিয়া অথৈকে ‘মারধর’র অভিযোগে তুমুল সমালোচিত হন তারকা শিল্পী তানজিন তিশা। এমন ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকাল থেকে সোশ্যাল হ্যান্ডেল হয়ে সংবাদমাধ্যমে চলছে তোলপাড়!
একই দিন বিকালে কাঁদতে কাঁদতে ফেসবুক লাইভে সামিয়া অথৈ জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জে একটি ঈদ নাটকের শুটিংয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। তার দাবি, একটি চড়ের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করেছেন তানজিন তিশা।
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিশার বক্তব্য এমন, ‘এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ চরিত্রের প্রয়োজনে এবং গল্পের চাহিদা অনুযায়ী।’
ঘটনাটির প্রতিক্রিয়া দিতে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিশা জানান, ‘আমি এতক্ষণ একই নাটকের শুটিং করছিলাম। আমি চাইনি দৃশ্যটা শেষ না করে কাজটা ফাঁসিয়ে দিতে। অথচ যে (সামিয়া) লাইভটা করেছে, সে কিন্তু ইউনিটকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেছে।’
তিশার অভিযোগ, ‘সে (সামিয়া) এমনভাবে লাইভ করেছে যেন আমি তাকে পারসোনালি অ্যাটাক করেছি। এখানে পারসোনালি অ্যাটাকের কিছুই নেই, তার বুঝতে ভুল হয়েছে। আমি যতটুকু করেছি, আমার চরিত্রের প্রয়োজনে করেছি। যতটুকু স্ক্রিপ্টে আছে, ততটুকুই করেছি। আমি চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি। এটা তার দুর্বলতা যে প্রফেশনাল সমস্যাটাকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নিয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে সামিয়া অথৈ ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জে নাটকের দৃশ্য ধারণের সময় তাকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে আহত করেন তিশা!
অথৈ জানান, ঘটনার সূত্রপাত একটি উপহারকে কেন্দ্র করে। তানজিন তিশার নতুন সিনেমার খবরে আনন্দিত হয়ে ২ মার্চ ঢাকা থেকে একটি উপহার নিয়ে শুটিং স্পটে যান সামিয়া অথৈ। তিশা সেই উপহার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে অথৈ বিব্রত হয়ে নীরব থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন দৃশ্য ধারণ চলাকালে তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অথৈকে খামচি দেন, এতে তার হাত ছুলে রক্ত বের হয়। ঘটনাটি উপস্থিত সবার সামনে ঘটে। অথৈ দাবি করেছেন, অপমানজনক ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেননি।
অথৈ সেলিমকে জানান, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও কয়েকজনকে ফারহানের সঙ্গে কাজ না করার জন্য সতর্ক করেন। কারণ জানতে চাইলে তিশা নাকি দাবি করেন, ফারহান তার ‘জামাই’! ঘটনার পর অথৈ বিষয়টি ফারহানকে জানান এবং পরে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি।
অথৈয়ের অভিযোগ, অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানকে নিয়ে পুরোনো ক্ষোভ থেকেই শুটিংয়ের সুযোগ নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।