বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যায় পরিণত করে নিজের রূপ, অভিনয়শৈলী আর গ্ল্যামার দিয়ে দুই বাংলার রূপালী পর্দা মাতিয়ে রাখছেন জয়া আহসান। আজ এই গুণী অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-অনুরাগী থেকে শুরু করে সহকর্মী—সবার ভালোবাসায় এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসছেন দুই বাংলার এই নন্দিনী।
জয়ার জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি বিশেষ ছবি পোস্ট করেছেন দেশের আরেক দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। স্থিরচিত্রে দেখা যায়, স্ত্রী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে জয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি।
ছবির ক্যাপশনে বন্ধু জয়াকে উদ্দেশ্য করে চঞ্চল লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বন্ধু। তুমি আমাদের গর্ব। তুমি জয়া আহসান একজনই।’ সাথে জুড়ে দিয়েছেন ভালোবাসার প্রতীক কালো রঙের হার্ট ইমোজি। চঞ্চলের এমন সুন্দর বার্তার প্রতিউত্তরে জয়াও পরম মমতায় লিখেছেন, 'ভালোবাসা বন্ধু।' চঞ্চলের সেই পোস্টে বিনোদন ও গণমাধ্যম জগতের অনেকেই জয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি জয়ার নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইলও এখন দুই বাংলার হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর শুভেচ্ছা বার্তায় মুখরিত।
জন্মদিনের এই আনন্দের আবহেই জয়া আহসান এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছেন তার নতুন কাজ নিয়ে। কলকাতায় খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ওপার বাংলার প্রখ্যাত নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলি। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জয়া-কৌশিক জুটির ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা 'অর্ধাঙ্গিনী'র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এই নতুন কিস্তিটি নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মাঝে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও জটিল আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটির প্রচারণার কাজে জয়া এখন কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছবিটি কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
টেলিভিশন নাটক ও মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও জয়া আহসান মূলত চলচ্চিত্রে এসে নিজের অভিনয়ের শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে চরিত্ররাই যেন তাকে খুঁজে নেয়।
২০১১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত 'গেরিলা' চলচ্চিত্রে বিলকিস বানুর চরিত্রে তার অভিনয় ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর 'চোরাবালি' ও 'জিরো ডিগ্রী'র পর তিনি মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’ চলচ্চিত্রটির সার্কসকন্যা ‘বিউটি’ চরিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে 'দেবী' এবং দেশের প্রথম ত্রিমাত্রিক (3D) চলচ্চিত্র 'অলাতচক্র'-এ দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে রেকর্ডসংখ্যক বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, ২০১৩ সালে অরিন্দম শীলের 'আবর্ত' সিনেমার মাধ্যমে কলকাতায় পাড়ি জমিয়ে টলিউডেও নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন জয়া। সৃজিত মুখার্জির 'রাজকাহিনী', কৌশিক গাঙ্গুলির 'বিসর্জন' ও 'বিজয়া', এবং অতনু ঘোষের 'বিনিসুতোয়' ও 'রবিবার' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ওপার বাংলায় সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ৪ বার মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার (ইস্ট) জয় করেন—যা কোনো বাংলাদেশী অভিনেত্রীর জন্য এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড।
২০২৩ সালে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর 'কড়ক সিং' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডেও তার সফল অভিষেক ঘটে। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের প্রযোজনা সংস্থা 'সি তে সিনেমা' থেকে 'দেবী'র মতো দর্শকপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।
রূপালী পর্দার বাইরে একজন সমাজকর্মী হিসেবে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত এবং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত সোচ্চার। জন্মদিনে দুই বাংলার এই প্রিয় অভিনেত্রীর জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা।