দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের দুর্দশা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়া জলমগ্ন জনপদ, মানুষের অসহায়ত্ব আর হাহাকারের ছবি দেখে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জয়া লেখেন, “গত কয়েকটা দিন ধরে চারদিকের জলমগ্ন ছবিগুলো, মানুষের হাহাকার আর অসহায়ত্ব দেখে কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছি না। বুকটা ভারী হয়ে আসছে। আমাদের দেশটা আজ কী ভীষণ এক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলমগ্ন প্রতিটি মুখ, আশ্রয়হীন প্রতিটি পরিবার আর অবোধ শিশুদের জলছল চোখগুলো সারাক্ষণ চোখের সামনে ভাসছে।”
তিনি মনে করেন, মানুষের প্রকৃত লড়াই শুধু বন্যার পানি কমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বরং আসল সংকট শুরু হবে পানি নেমে যাওয়ার পর। সে প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “মানুষের এই লড়াইটা শুধু পানি কমার নয়। আসল যুদ্ধটা হয়তো শুরু হবে পানি নেমে যাওয়ার পর।”
পানিবাহিত নানা রোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জয়া সবাইকে এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরাপদ পানি ও শুকনো খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে বৃদ্ধ মানুষ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের প্রতি। নোংরা পানি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে তাদের দূরে রাখার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে গৃহপালিত প্রাণীদের কথাও তুলে ধরেন জয়া আহসান। তিনি লেখেন, “আমাদের আশেপাশের অবোলা গৃহপালিত প্রাণীগুলোর কথা ভুলবেন না যেন। বিপদের এই দিনে ওরা তো মুখে ফুটে কষ্টের কথা বলতে পারে না। আপনার সাধ্যমতো ওদের একটু নিরাপদ শুকনো জায়গা দিন, একটুখানি খাবার দিন। ওরাও তো আমাদের এই প্রকৃতিরই অংশ, আমাদের পরিবারের মতোই।”
সবশেষে মানবিকতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, দুর্যোগ মানুষের পরীক্ষা নিলেও যেন মানবতা হারিয়ে না যায়। সবাইকে সচেতন থাকার, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এবং নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সবার জন্য প্রার্থনা ও ভালোবাসা জানান এই অভিনেত্রী।